Assembly Election

জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এফআইআর নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, পুলিশকেও কড়া হুঁশিয়ারি

কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দেশ মানা না হলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও জানানো হয়েছে।

তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১০:৫৭

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় উত্তেজনার আবহে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ‘ঘনিষ্ঠ’দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দেশ মানা না হলে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা পুলিশের দায়িত্ব বলেও জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় থেকেই ফলতায় দফায় দফায় অশান্তির অভিযোগ উঠেছে। একাধিক বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিও ওঠে। যদিও শনিবার রাজ্যের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন হলেও সেই তালিকায় ফলতার কোনও বুথ নেই। এর মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে ফের উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ, বিজেপি সমর্থক বলে পরিচিতদের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা হুমকি দিচ্ছে।

এই ঘটনায় জাহাঙ্গির-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইস্রাফুল চোকদার এবং সুজাদ্দিন শেখের নাম সামনে এসেছে। অভিযোগ, তাঁদের নেতৃত্বেই ভয় দেখানো ও হুমকির ঘটনা ঘটছে। এই প্রেক্ষিতে তাঁদের এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

শুক্রবার থেকেই ফলতার হাসিমনগর এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবারও সেই উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁদের ভোট দিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা ঘটনাস্থলে যান। মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীরা রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বাড়িতে ঢুকে মারধর ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ইস্রাফুলের গ্রেফতারি এবং ফলতার বিতর্কিত দুই বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবিও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

যদিও পুলিশের দাবি, এলাকায় কোনও লাঠিচার্জ হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।


Share