Assembly Election

ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে হল বিশেষ বৈঠক, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি কমিশনারদের উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত, এন কে মিশ্র, রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তা।

জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করছেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১০:৫০

ভোট পরবর্তী হিংসা ঠেকাতে আগে থেকেই তৎপর হয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর একটি বিশেষ বৈঠক করেছে। তাতে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের তৎপর থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে হিংসার খবর এসেছে। যা দেখে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিতে আরও সক্রিয় হতে চলেছে বলে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। কমিশন জানিয়েছিল, প্রথম দফার নির্বাচনের আগে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দু’হাজারের বেশি দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছিল। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগেও দেড় হাজারের বেশি দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। অতীতের নির্বাচনের সময় বা পরে এরাই এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখত। এরা গ্রেফতার হয়েছে বলে ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাই তারা এখনই জামিনে ছাড়া পেয়ে গেলে নতুন করে অশান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র ডেপুটি কমিশনারদের উপস্থিতিতে উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত স্পেশাল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত, এন কে মিশ্র, রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল, মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ‍্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার, সিআরপিএফের আইজি। এ ছাড়াও, এই বৈঠকে সমস্ত অবজার্ভার, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, কমিশনারেটের কমিশনাররা এবং জেলা পুলিশের সুপারেরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন সূত্রের খবর, আগামী ৪ মে ভোট গণনার দিন নিরাপত্তা নিরাপত্তা কেমন থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাজ‍্যের কোনও প্রান্ত থেকে কোনও হিংসার ঘটনার খবর আসতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পরেও রাজ্যে প্রায় একমাস বাহিনী মোতায়েন থাকবে। তা প্রয়োজন মতো ব‍্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে বিশেষ ভাবে সক্রিয় হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা এমনকি, কলকাতাতেও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ-সহ বিভিন্ন অপরাধের ১৯৭৯টি অভিযোগ জমা পড়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে। হাই কোর্টের নির্দেশে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’ খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তা নিয়ে রাজ্যের জবাব চেয়েছিল হাই কোর্ট। খুন, ধর্ষণের মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভোট পরবর্তী হিংসার বিভিন্ন মামলা এখনও বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।


Share