Assembly Election

ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে, তৃণমূলের দাবি দিয়ে বিবৃতি জারি করল নির্বাচন কমিশনের

তৃণমূল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলল। দলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রর গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন। তা নিয়েই বিবৃতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৬

ইভিএমে কোনও কারচুপি হয়নি। স্ট্রংরুমের মধ্যে ইভিএম সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং নিরাপদে রয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিবৃতি দিল নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ভিতরে মোট সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম রয়েছে। গতকাল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্ট এবং বিধানসভা কেন্দ্রগুলির জেনারেল অবজার্ভারদের উপস্থিতিতে সমস্ত স্ট্রংরুম যথাযথভাবে বন্ধ এবং সিল করা হয়েছে। শেষবার ভোর প্রায় ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ স্ট্রংরুম বন্ধ করা হয়। ভোটে ব্যবহৃত সমস্ত ইভিএম এবং ভিপিপ‍্যাট স্ট্রংরুম নিরাপদ ভাবে সিল করা হয়েছে। তা সেখানে সুরক্ষিত ভাবে রাখা হয়েছে।

কমিশন এ-ও জানিয়েছে, ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট রাখার জন্য আলাদা একটি স্ট্রংরুম রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ভোটকর্মী এবং ইটিবিপিএস (যে ব‍্যবস্থায় সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং দূরবর্তী স্থানে কর্মরত অন্যান্য ভোটারেরা ইলেকট্রনিক ভাবে ব্যালট পেয়ে ডাকযোগে ভোট দেন)— এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ব্যালটগুলি বিধানসভা কেন্দ্র অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে সমস্ত পর্যবেক্ষক ও রিটার্নিং অফিসারদের অবহিত করা হয়েছিল। সমস্ত রিটার্নিং অফিসারদের অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তাঁরা প্রার্থী এবং তাঁদের এজেন্টদের জানিয়ে দেন। রিটার্নিং অফিসারেরা ইমেলের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকেও বিষয়টি জানিয়েছেন।

কমিশন জানিয়েছে, এ দিন বিকেল ৪টা থেকে স্ট্রংরুমের করিডরে পোস্টাল ব্যালট আলাদা করার কাজ চলছিল। মূল স্ট্রং রুমগুলি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তালাবদ্ধ করা অবস্থায় রয়েছে। এই পুরো বিষয়টিকে শ‍্যামপুকুরের তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজা, বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং মধ‍্য কলকাতার বিজেপি কর্মী কালী খটিককে দেখানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমের ভিতরে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগ তুলল। দলের দুই প্রার্থী কুণাল ঘোষ এবং শশী পাঁজা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রর গেটের বাইরে অবস্থানে বসেন। পরে সেখানে মানিকতলার বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় সেখানে ঢুকতেই উত্তেজনা ছড়ায়। তাঁকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। পাল্টা স্লোগান দেয় বিজেপিও। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার রূপেশ কুমারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।

ঘটনায় বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব‍্য বলেন, “এটাই গণতন্ত্রের শক্তি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একজন মন্ত্রী এবং একটি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য, যাঁরা চুরি করা জনমতের ভিত্তিতে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই ইভিএম রাখা স্ট্রংরুমের বাইরে বিক্ষোভ করছে। সত্যিটা হল, মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। ৪ মে সম্ভাব্য পরাজয়ের জন্য তিনি কেবল অজুহাত তৈরি করছেন।”


Share