Assembly Election

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৭৭ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি, বেশিরভাগই ফলতায়, চাপে তৃণমূল

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে। ওই বৈঠকেই ঠিক হবে কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০৫

প্রথম দফার ভোটে পুনর্নির্বাচনের কোনও দাবি ওঠেনি। তবে বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে। ওই বৈঠকেই ঠিক হবে কতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে, আগামী ১ মে কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ জারি হতে পারে।

সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে ফলতা থেকে। সেখানকার ৩২টি বুথে পুননির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারে জমা পড়েছে ২৯টি অভিযোগ, মগরাহাটে ১৩টি এবং বজবজে তিনটি। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ইভিএমে টেপ লাগানো, আতর দেওয়া কিংবা ক্যামেরা ঢেকে দেওয়ার মতো ঘটনা। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এখনও সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের দাবি এই পুনর্নির্বাচনের আবেদনগুলির অধিকাংশই এসেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরফে থেকেই।

এ দিকে ভোটের শেষ লগ্নে একটি গুরুতর অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনের কাছে। ডায়মন্ড হারবারের মগরাহাট পশ্চিমে এক ভোটারের জামার পকেটে স্পাই ক্যামেরা রাখা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হয়েছে, ওই ক্যামেরার মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছিল ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন, যা ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৪ হাজার ৩৭৬টি বুথে ভোটগ্রহণ হলেও কোথাও পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠেনি। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় শুধুমাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকেই এতগুলি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি ওঠা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এই জেলার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন উত্তরপ্রদেশের ‘সিংঘম’ নামে পরিচিত অজয় পাল শর্মা, যিনি নিজে ময়দানে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তারপরেও এতগুলি অভিযোগ জমা পড়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


Share