Assembly Election

প্রথম দফার মতো বেশি ভোটের ট্রেন্ড দ্বিতীয় দফাতেও, রেকর্ড ছোঁয়ার লড়াইয়ে বুথে বুথে ভোটারদের ঢল

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, যেখানে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই ভোটারদের উৎসাহী উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিপরীতে, কলকাতা দক্ষিণে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:০৩

প্রথম দফার মতো বেশি ভোটের ট্রেন্ড দ্বিতীয় দফাতেও দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় এখনও পর্যন্ত যে ভোটদানের হার দেখা যাচ্ছে তাতে নতুন রেকর্ড গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বুধবার দুপুর গড়াতেই বিভিন্ন বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন স্পষ্ট করে দেয় যে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৭৮.৬৮ শতাংশে। তুলনায়, প্রথম দফায় একই সময়ে ভোট পড়েছিল ৭৮.৭৭ শতাংশ অর্থাৎ খুব সামান্য ব্যবধানে হলেও দ্বিতীয় দফা প্রথম দফার রেকর্ড ছুঁতে বা ছাপিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ‍্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় প্রথম আট ঘণ্টাতেই ৭৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই সাত জেলায় মোট ভোট পড়েছিল ৮১ শতাংশ। ২০২১ সালের রাজ‍্যজুড়ে মোট ভোট পড়েছিল ৮২ শতাংশ। প্রথম ছ’ঘণ্টাতেই ভোটদানের হার ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের নিরিখে তুলনায় যা ১০ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রথম ছ’ঘণ্টায় ভোট পড়েছিল ৫১ শতাংশ। এ বার ৬১ শতাংশ ভোট পড়ল। ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় প্রথম ছ’ঘণ্টাতেই কলকাতায় ২০ শতাংশ বেশি ভোটদান হয়েছে। 

জেলাভিত্তিক ভোটদানের পরিসংখ্যানে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। যেখানে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই ভোটারদের উৎসাহ উপস্থিতি চোখে পড়েছে। বিপরীতে, কলকাতা দক্ষিণে ভোটদানের হার তুলনামূলক ভাবে কম। যদিও শহরের বুথগুলিতে লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। শতাংশের বিচারে তা এখনও অনেকটাই পিছিয়ে।

আসনভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে গলসিতে। ওই কেন্দ্রে ৮৫.১১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্য দিকে, মহেশতলা বিধানসভায় ভোটের হার সবচেয়ে কম। সেখানে ৭০.১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে। ‘হাইভোল্টেজ’ কেন্দ্র ভবানীপুরে দুপুর তিনটে পর্যন্ত ৭৫.৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে এ বারের চিত্র আরও স্পষ্ট। সেই নির্বাচনে সাত দফা জুড়ে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভোটদানের হার সাধারণত ৫৯ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সর্বোচ্চ হার ছিল ষষ্ঠ দফায়। ওই দফায় ৭০.২ শতাংশ পড়েছিল। সেখানে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফাতেই ভোটের হার প্রায় ৮০ শতাংশ ছুঁইছুঁই। যা নিঃসন্দেহে নজর কাড়তে চলেছে।

এই বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে কী কার, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের আলোচনা শুরু করেছে। এই অতিরিক্ত ভোট তৃণমূল শিবিরের পক্ষে যাবে, নাকি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে, তার উত্তর এখন ইভিএমেই সুরক্ষিত রয়েছে। ‘ভয় কাটিয়ে ভরসা’ নাকি ‘প্রত‍্যাবর্তন’ তা আগামী ৪মে বোঝা যাবে।


Share