Assembly Election

পোস্টাল ব্যালটে ভোট না পেয়ে ক্ষোভ, কৃষ্ণনগরে জাতীয় সড়ক অবরোধে ভোটের ডিউটিতে থাকা গাড়ি চালকেরা

অভিযোগ, এই চালকদের আগে থেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট কবে কিভাবে হবে তা জানানো হয়নি। ফলে অনেকে নিজেদের বুথে ভোট দিতে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের ভোট ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে।

জাতীয় সড়ক ১২ অবরোধ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৫:৫০

ভোট দিতে না পারার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নদিয়ার কৃষ্ণনগর। বুধবার সকালে ভোটের ডিউটিতে থাকা একদল গাড়ি চালকেরা কলকাতা-শিলিগুড়ি ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ তাঁরা পাননি। কার্যত তাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

অভিযোগ, কৃষ্ণনগর এক নম্বর ব্লকে নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এই চালকদের আগে থেকে জানানো হয়নি কবে এবং কীভাবে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে হবে। ফলে অনেকে নিজেদের বুথে ভোট দিতে যান। তখন জানতে পারেন, তাঁদের ভোট ইতিমধ্যেই পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় চালকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

ঝিটকেপোতা এলাকার এক গাড়ি চালক জানান, তিনি বুথে গিয়ে দেখেন তাঁর ভোট হয়ে গেছে। তিনি নিজে কোনও ভোট দেননি। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে ভোট দিতে না পারলে তিনি চরম পদক্ষেপ করতেও বাধ্য হবেন। আরও এক চালক নান্টু শর্মার গলাতেও একই সুর শোনা যায়। তাঁর দাবি, ২০ এপ্রিল থেকে তিনি ডিউটিতে ছিলেন। কোথায় এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশ তিনি পাননি।

এই ঘটনার প্রতিবাদেই জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছোন কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্লকের আধিকারিকদের গাফিলতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, যাঁরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের ভোট প্রক্রিয়া পুনরায় করার দাবিও তোলেন তিনি।

অন্য দিকে, তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল বিশ্বাস এই ধরনের অভিযোগ এই প্রথম শুনেছেন বলে জানান। তাঁর মতে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনায় নদিয়ার জেলা নির্বাচনী শ্রীকান্ত পল্লী জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।


Share