Kali Puja Halted

৫০ ফুটের পাহাড়ে উঠে কালীপ্রতিমা দর্শনের পরিকল্পনা! নিরাপত্তার কারণে প্রবেশ বন্ধ করল পুলিশ, পুজো বন্ধের হুঁশিয়ারি উদ্যোক্তাদের

অভিযোগ, পুলিশ সুপার মণ্ডপ পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরেই তাঁর নির্দেশ অমান্য করে মন্ডপ উদ্বোধন করা হয়। দর্শনার্থীদের পাহাড়ের মতো কাঠামোর উপরে ওঠার সুযোগও দেওয়া হয়।

কালীপূজা মণ্ডপ
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:০৫

সম্প্রতি কলকাতার চোরবাগানের দুর্গাপুজোয় ঘটে গিয়েছে এক অবিশ্বাস্য দুর্ঘটনা। একাধিক মানুষ মারা গিয়েছেন। সেই ঘটনাই পুলিশ প্রশাসনের চোখ খুলে দিয়েছে। নিরাপত্তার জন্য বারাসতের একটি পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল পুলিশ। ৫০ ফুট উঁচু পাহাড়ের আদলে তৈরি মণ্ডপ। তার মাথায় আদিযোগীর বিশাল শিবমূর্তি। নীচে কালীপ্রতিমা। দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করতেই এমন অভিনব আয়োজন করেছিল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের সংঘশ্রী ক্লাব। কিন্তু মণ্ডপের সেই বিশেষ আকর্ষণেই আপত্তি পুলিশের। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মণ্ডপের উপরে উঠে প্রতিমা দর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বারাসত পুলিশ জেলা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে পুলিশ ও পুজো উদ্যোক্তাদের মধ্যে টানাপড়েন। এমনকি দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকলে পুজো বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

কালীপুজোর আগে বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এম মার্সি মণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। মণ্ডপের প্রবেশ ও বেরনোর রাস্তা পর্যাপ্ত প্রশস্ত নয় বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ৫০ ফুট উঁচু কাঠামোয় দর্শনার্থীদের ওঠানামা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পুজো কমিটির নিযুক্ত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২০ জন মণ্ডপে ওঠার সুযোগ পাবেন। নিরাপত্তারক্ষী ও ক্লাব সদস্যদের বাদ দিলে একসঙ্গে মাত্র ১০ জন দর্শনার্থীকে ওঠানো সম্ভব। ফলে ভিড় সামলানো কঠিন হতে পারে বলেই পুলিশ মনে করছে। সেই কারণেই আপাতত মণ্ডপের উপরে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নীচে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দর্শনে কোনও বাধা নেই। পুজো বা মেলা বন্ধ করার নির্দেশও দেয়নি প্রশাসন।

অভিযোগ, পুলিশ সুপার মণ্ডপ পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পরেই তাঁর নির্দেশ অমান্য করে মন্ডপ উদ্বোধন করা হয়। দর্শনার্থীদের পাহাড়ের মতো কাঠামোর উপরে ওঠার সুযোগও দেওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসতেই অশোকনগর থানার তরফে পদক্ষেপ করা হয়। শনিবার রাতের মতো বন্ধ করে দেওয়া হয় মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ।

প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সংঘশ্রী ক্লাব শ্যামাপুজো কমিটির সদস্য তাপস পাল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তামিলনাড়ুর আদিযোগীর আদলে তৈরি এই পাহাড়ি মণ্ডপের মূল আকর্ষণই হল উপরে উঠে প্রতিমা দর্শন। নীচে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দেখার ব্যবস্থা করলে মণ্ডপ তৈরির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। দর্শনার্থীদের উপরে ওঠার অনুমতি না দেওয়া হলে পুজো বন্ধ রাখার কথাও ভাবতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, পুজো কমিটির দাবি, প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে এই মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। এলাকার রিকশাচালক থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেই এই আয়োজন। গত দু’মাস ধরে প্রায় ৫০ জন সদস্য দিনরাত পরিশ্রম করে মণ্ডপ তৈরি করেছেন। ক্লাবের ৫৯ বছরের পুজোয় এর আগেও পাহাড়ের আদলে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। ২০১০ সালে অমরনাথের আদলে আরও বড় পাহাড় নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অতীতে কখনও কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের।

যদিও প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না। ফলে সংঘশ্রীর এই অভিনব মণ্ডপে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রবেশের অনুমতি পান কি না, এখন সেদিকেই নজর।


Share