Bangladesh Turmoil

মহিলার সৌন্দর্যের কারণে বোরখা পরার পরামর্শ পুলিশের! ঢাকায় হিন্দু মহিলাকে নির্যাতনের অভিযোগ, ফের প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা

আক্রান্ত মহিলার নাম রীতা রানি। তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। সেখানকার মিরপুর এলাকায় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু কর্মী রীতা রানির বাড়িতে যায়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাংলাদেশ
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৫৯

আবার বাংলাদেশে হিন্দু মহিলাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশে বিএনপির কয়েক জন কর্মীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মহিলার শারীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সমাজমাধ‍্যমেনদাবি করেছেন সাংবাদিক সোয়েব উদ্দিন সালাহ চৌধুরি। তাঁর বক্তব্য, অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে হিন্দু মহিলার সৌন্দর্যকে দায়ী করেছে পুলিশ আধিকারিক। এমনকী, বোরখা পরারও নিদান দেওয়া হয়েছে। 

আক্রান্ত মহিলার নাম রীতা রানি। তিনি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা। সেখানকার মিরপুর এলাকায় বিএনপির সঙ্গে যুক্ত সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কিছু কর্মী রীতা রানির বাড়িতে যায়। সেখানেই রীতাকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। রীতার ওপরে ইসলামিক চরমপন্থী দুষ্কৃতীরা নির্যাতন চালায় বলে দাবি করা হয়েছে।

সাংবাদিক সোয়েব উদ্দিন সালাহ চৌধুরি পোস্টে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপরে অত‍্যাচারের ঘটনার পরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বর্ষীয়ান সাংবাদিক সোয়েব উদ্দিন সালাহ চৌধুরীর পোস্ট অনুযায়ী, ঘটনার পর ন্যায়বিচারের আশায় শ্রীতা রানি মিরপুর থানায় যান। তখন তাঁকে সাহায্য করার পরিবর্তে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন। পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই পুলিশ আধিকারিক হিন্দু মহিলার সৌন্দর্য সর্বনাশের কারণ হিসেবে মনে করেন। ওই আধিকারিক এ-ও মনে করেন, তিনি যদি বোরখা পরতেন, তাহলে তাঁর সঙ্গে এমন ঘটনা নাকি কখনও ঘটত না।

সোয়েব চৌধুরির আরও দাবি, পুলিশ ওই মহিলার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপও পুলিশ করেনি। যদিও পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে কোনও থানায় এই ধরনের অভিযোগ দায়ের হওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এমনকী, রীতা রানি থানায় এসেছিলেন, এমন কোনও তথ্যও পুলিশের কাছে নেই বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহিলার পরিচয় এবং ভাইরাল হওয়া ছবির সত্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের অগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দেশে ইসলামিক কট্টরপন্থীদের প্রভাব বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সমস্যাও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকের পোস্টের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমের কাছেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ নিয়ে তারা কবে গুরুত্ব সহকারে নজর দেবে? নির্যাতিতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কবে সরব হবে তারা? তবে এই সমস্ত অভিযোগের পাশাপাশি রীতা রানিকে ঘিরে ওঠা ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসা এবং সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াও অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। 

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা এলাকায় দীপুচন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর তাঁর দেহ গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ তো বটেই, ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

দীপুচন্দ্র দাস একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর কারখানার বাইরে একটি জনতা জড়ো হয়। এরপর তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যার পর ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহের সংযোগকারী জাতীয় সড়কের পাশে একটি গাছে তাঁর দেহ বেঁধে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


Share