Myesterious Death

নিউটাউনে যুবকের রহস্যমৃত্যু! ফুটবল মাঠ থেকে দেহ উদ্ধার, মিলল গলায় ফাঁসের চিহ্ন, খুনের অভিযোগ পরিবারের

মৃতের মা বলেন, “ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। কেউ বলতে পারবে না ও খারাপ ছেলে। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চাই।”

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউটাউন
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৪:৫০

নিউটাউনে যুবকের রহস্যমৃত্যু। বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটবল মাঠের পাশ থেকে উদ্ধার হল ৩২ বছরের এক যুবকের দেহ। মৃতের গলায় ফাঁসের চিহ্ন পাওয়া হয়েছে পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের দাগ রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছেলেকে খুন করা হয়েছে। যদিও কী কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে, তা নিয়ে কোনও ধারণা নেই পরিবারের সদস্যদের। যুবকের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল না বলেও তাঁর মা- বাবা দাবি করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সুব্রত হালদার। তিনি শুলংগুড়ি দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকে ওই যুবক বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর আর কোনও খোঁজ পাচ্ছিলেন না। একাধিকবার ফোন করেও সুব্রতের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গভীর রাতেও ফোন করা হলে তা বেজে যায়। কিন্তু কেউ ধরেননি। এরপর সুব্রতের বন্ধুদের সঙ্গে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করেন। তাঁরাও জানান, ওই যুবকের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়নি। পাশাপাশি পাড়ার লোকজনও সুব্রতের খোঁজ শুরু করেন।

এরপর নিউটাউন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফুটবল মাঠের পাশ থেকে সুব্রতের দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের দাবি, তাঁর গলায় ফাঁসের চিহ্ন ছিল। শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের দাগও তাঁরা দেখতে পেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সুব্রতের মৃত্যু আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ পরিবার। মৃতের মা বলেন, “ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। কেউ বলতে পারবে না ও খারাপ ছেলে। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চাই।”

একই দাবি প্রতিবেশীদেরও। প্রতিবেশী সমীর হালদারের কথায়, সুব্রতের নামে কখনও কোনও খারাপ কথা শোনা যায়নি। তাঁর বক্তব্য, সুব্রত নিখোঁজ হওয়ার পর পাড়ারই এক যুবকের কাছ থেকে তাঁরা মৃত্যুর খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন পুলিশ পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর দাবি, ততক্ষণে গলা থেকে ফাঁস খুলে গিয়েছিল। দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্নও চোখে পড়ে।

ঠিক কী কারণে সুব্রতের মৃত্যু হল, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। এটি খুন, নাকি আত্মহত্যা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেউ তাঁকে খুন করে থাকলে তার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


Share