Land Scam

জমি দখলের হোতা ‘গাঙ্গুলি গ্রুপের’ কর্ণধার, তৃণমূল জমানার সিন্ডিকেটরাজ এখনও সক্রিয়, ইডি তদন্তের দাবি

স্থানীয়দের অভিযোগ, নরেন্দ্রপুর থানার মদতে এখনও এলাকায় সিন্ডিকেটরাজ চালাচ্ছেন অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ইডি তদন্তের দাবিও তুলেছেন। অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিও তাঁরা জানিয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনারপুর
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ০৯:০৪

সোনারপুর এলাকায় জমি দখলের ‘হোতা’ ‘গাঙ্গুলি গ্রুপের’ কর্ণধার অমিত গঙ্গোপাধ্যায়। সোনারপুর এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় তাঁর নাম অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। বেআইনি জমি দখল মামলায় তাঁর বাড়িতেও ইডি তল্লাশি চালায়।

জানা গিয়েছে, এই অমিত গঙ্গোপাধ্যায় জয় কামদার, সোনা পাপ্পু এবং শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের গ‍্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। অমিত মূলত সোনাপুর এলাকায় সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগেও এই অমিতের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। বেশিরভাগই সোনারপুর এবং নরেন্দ্রপুর থানায়। বেশিরভাগই প্রতারণা, হুমকির ধারা রয়েছে। দুটি অস্ত্র মামলাও রয়েছে এই অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে বিরুদ্ধে। জমি দখল মামলার তদন্তে ইডি তল্লাশি আগেও এই অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালায়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গড়িয়া গড়িয়া প্লেস  নামক রাস্তার পাশে একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। সেই জায়গায় অর্ধেক পুকুরে এবং অর্ধেক ডাঙায় টিন দিয়ে ঘিরে নির্মাণকাজ চলছে। গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকার মহামায়াপুরে আরও একটি জায়গায় টিন দিয়ে ঘিরে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোডের ওপর রথতলায় বিরাট একটি জলাশয় বুঝিয়েও নির্মাণ চলছে। এই সব অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’ করছে বলে জানা গিয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে তৈরি করা হচ্ছে বলেই স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন। স্থানীয়দের এ-ও দাবি, জলাশয়ের এলআর রেকর্ড তৃণমূলের জমানায় মোটা টাকার বিনিময়ে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। তবে রেকর্ড পরিবর্তন হলেও জলাশয় ভরাট করা যায় না। নির্মাণও করা যায় না।

তাঁদের আরও দাবি, নির্বাচনের আগে অমিতের ‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’ নজরুল নামে এক জমি মাফিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল। নির্বাচনের সময় নরেন্দ্রপুর থানার আধিকারিককে বদল করা হয়েছিল। পালাবদলের পরেও অমিত গঙ্গোপাধ্যায়ের থানার কিছু আধিকারিকদের আবার নতুন করে আতাঁত শুরু হয়েছে। ইডি তদন্তেরও দাবি তাঁরা জানাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, জমি দখলে বেআইনি আর্থিক লেনদেন মামলায় প্রথমে কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা রাসবিহারীর প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকে ইডি একাধিক বার জেরা করে। এই মামলার তদন্তে নেমে প্রথমে জয় কামদার নামে এক নির্মাণ ব‍্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। পরে কসবার তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে গ্রেফতার করে। পরে ইডির অফিসে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কলকাতা পুলিশের প্রভাবশালী ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে। সোমবার এই মামলায় শ্রেয়া পান্ডেকেও ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

উল্লেখ্য, সোমবার রাতে গড়িয়ার মহামায়াতলার‘গাঙ্গুলি গ্রুপ’-এর একটি আবাসন প্রকল্পে ঢুকে আইপিএস অফিসার শান্তি দাস গুন্ডামি করেছেন বলে অভিযোগ করে তাঁরা। আইপিএস অফিসার শান্তি দাস সেখানকার কর্মীদের মারধর করে বলে দাবি করে। যদিও ভাইরাল হওয়া সিসি ক‍্যামেরার ভিডিয়োতে কোথাও আইপিএস অফিসার শান্তি দাসকে মারধর করতেই দেখা যায়নি।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে আইপিএস অফিসার শান্তি দাস বলেন, তিনি সেখানে থাকতেন। তার জিনিসপত্র সেখানে রয়েছে। এই অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। শান্তি দাস জানান, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁর মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে এক স্থানীয় জানান, “শান্তিদেবী সেখানে থাকতেন তাই তিনি সেখানে আসতেই পারেন। কোনও মারধর বা অশান্তির ঘটনা ঘটেছে বলে আমি অন্তত শুনিনি।”


Share