Swimming Competition

২০৩৬ অলিম্পিকের লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গে সাঁতারের প্রতিভা খোঁজার উদ্যোগ, দক্ষিণ দিনাজপুরে তিন জেলার প্রতিযোগিতা

২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতের হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেও যাতে সাঁতারু প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সেই দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা থেকেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন বলে উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে।

সুইমিং প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকারী দুই প্রতিযোগী।
অরুণিমা কর্মকার, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৭

২০৩৬ সালের অলিম্পিককে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গে সাঁতারের প্রতিভা খুঁজে বের করতে বিশেষ উদ্যোগ। সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ দিনাজপুরে আয়োজন করা হল তিন জেলার সাঁতার প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মালদহ, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাঁতারুরা।

আয়োজকদের লক্ষ্য, ছোট বয়স থেকেই প্রতিভাবান সাঁতারুদের চিহ্নিত করে তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করা। ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতের হয়ে উত্তরবঙ্গ থেকেও যাতে সাঁতারু প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সেই দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা থেকেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন বলে উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে।

তিন জেলার সাঁতারুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিভাগে মোট ৪৩টি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেন ৮০ জন প্রতিযোগী। প্রতিটি ইভেন্টেই ছিল জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নিজেদের সেরাটা দিতে জলে নামেন একাধিক প্রতিভাবান সাঁতারু।

প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে বালুরঘাট মিউনিসিপ্যালিটি। তারা প্রথম স্থান অধিকার করে। রানার্স হয় জলপাইগুড়ি সুইমিং ক্লাব। দক্ষিণ দিনাজপুরের সাঁতারু শ্রীমা চক্রবর্তীও নজর কাড়েন। একটি ইভেন্টে দ্বিতীয় এবং আরও দু’টি ইভেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে খুশি পরিবার, প্রশিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীরা।

প্রতিযোগী শ্রীমা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমি অনেক ছোট থেকেই সুইমিং করছি। একটি ইভেন্টে দ্বিতীয় এবং দু’টি ইভেন্টে তৃতীয় স্থান পেয়েছি। সুইমিং নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই। দক্ষিণ দিনাজপুরে এই ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন হওয়ায় আমি খুব খুশি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যাতে সুইমিংয়ে উৎসাহী হয়, সেই আশা রাখছি।’’

আয়োজকদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সাঁতারে যথেষ্ট প্রতিভা রয়েছে। কিন্তু অনেক সময় পরিকাঠামোর অভাব এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ না থাকায় সেই প্রতিভা সামনে আসে না। তাই তিন জেলার সাঁতারুদের এক মঞ্চে এনে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

২০৩৬ সালের অলিম্পিক এখনও বেশ কয়েক বছর দূরে। সেই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সামনে রেখে এখন থেকেই প্রতিভাবান সাঁতারুদের চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের প্রতিযোগিতা আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের সাঁতারুদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে।


Share