Indranil Sen

ইন্দ্রনীল সেনের দুর্নীতির টাকা কোথায়? প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিয়েই বাড়িতে চলছে তল্লাশি, ‘কাঠের পুতুল ছিলাম’, জেরায় দাবি আভেরীর

দুর্গাপুজোর টিকিট জালিয়াতি ও সরকারি টেন্ডার দুর্নীতির টাকা কোথায় রয়েছে, তা খুঁজতেই তদন্তকারীদের এই তৎপরতা।

রাজ‍্যের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৫

দুর্গাপুজোর টিকিট জালিয়াতি এবং পর্যটন দফতরের টেন্ডার দুর্নীতির টাকা কোথায়, জানতে চায় লালবাজারের গোয়েন্দারা। শুক্রবার বিকেলে মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে কসবার বাসভবনে গিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, তাঁকে চন্দননগরের বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া হবে। অন‍্য দিকে, ইন্দ্রনীলের কন‍্যাকে লালবাজারের গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশের দাবি, তিনি নিজেকে ‘কাঠের পুতুল’ বলে দাবি করেছেন। বাবা ইন্দ্রনীল যা বলতেন আভেরীকে সেটাই করতে হত বলে দাবি করেছেন।

ইউনেস্কোর নাম করে দুর্গাপুজোর টিকিট বিক্রি করে জালিয়াতি এবং একচেটিয়া পর্যটন দফতরের সরকারি টেন্ডার তিনটি সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, যে ২৬টি অ‍্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছিল তা সবকটি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির টাকা ঘুরপথে ইন্দ্রনীল-সহ আত্মীয় ও বন্ধুদের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। এই মাসআর্টের মাধ্যমে যে টাকা তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে তা নিয়ে গোয়েন্দারা দু’জনেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মেয়ে আভেরীর দাবি, তিনি কাঠের পুতুল ছিলেন। বাবা যা করতে বলতেন সেটাই তাঁকে করতে হত। জিজ্ঞাসাবাদের সময় যাবতীয় দোষ বাবার ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি।

দুর্নীতির টাকা অ‍্যাকাউন্টে নিলেও বেশ কিছু অর্থ বাড়িতেও রাখা আছে বলে পুলিশ মনে করছে। এ বার তা উদ্ধার করতেই ইন্দ্রনীলকে নিয়ে কসবার বাড়িতে যায়। তাঁকে সেখান থেকে চন্দননগরের ফ্ল‍্যাটেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

তবে মাসআর্টের সাথে ইউনেস্কোর কোনও চুক্তি হয়েছিল কি না তা এখনও বিশ্বসংস্থা জানায়নি। এর আগে দিল্লিতে অবস্থিত ইউনেস্কোর দফতরে ইমেল মারফত জানতে চেয়েছিল লালবাজার। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ইউনেস্কোর তরফে বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। সেকারণে লালবাজার আবার চুক্তির বিষয়টি জানতে চেয়ে পুনরায় ইমেল করেছে বলে লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে। 

পুলিশের অভিযোগ, মাসআর্ট, জিডি ক্রিয়েশন, থার্ড লাইন ক্রিয়েশন-সব মোট চারটি সংস্থার মাধ্যমে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি হয়েছে। পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের টেন্ডার মিলিয়ে মোট ১৫০ কোটি টাকার দুর্নীতি ছাপিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ৫০ কোটি টাকার টেন্ডার শুধুমাত্র এই মাসআর্ট সংস্থা পেয়েছে। লালবাজারের এক কর্তার বক্তব্য, বিপুল পরিমাণ নথি পুলিশের হাতে এসেছে। তা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়াই পুলিশের একমাত্র লক্ষ্য। তাই এই বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র পরীক্ষা করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ ইন্দ্রনীল সেন রাজ‍্যের তথ‍্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। তথ‍্য ও সংস্কৃতি দফতর মমতার হাতেই ছিল। তাই দুর্নীতি দমন আইনের ধারাও ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে লাগু হতে পারে। অন‍্য দিকে, মেন্টেনেন্স অ‍্যান্ড পাবলিক অর্ডার আইনের ধারাও ইন্দ্রনীলের এবং তাঁর গ‍্যাঙের বিরুদ্ধে  বিরুদ্ধে লাগু হতে পারে। এই বিষয়ে লালবাজারের এক কর্তার বক্তব্য, আইনি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই সব বিষয় নিয়ে রাজ‍্যের আইন দফতরের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।


Share