Bus Transport

বেসরকারি পরিবহণে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটার আশা, নতুন পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আশাবাদী বাসমালিকেরা

সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ১৮ মে পরিবহণ দফতরে ১০ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরে ১৪ জুন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৫:৪২

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বেসরকারি পরিবহণ শিল্পে দীর্ঘদিনের সঙ্কট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বাস মালিকেরা। গত নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধি না হওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েছিল বেসরকারি পরিবহণ ক্ষেত্র। তবে নতুন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত মিলছে বলে দাবি করেছে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস।

সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ১৮ মে পরিবহণ দফতরে ১০ দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরে ১৪ জুন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহের সঙ্গে সংগঠনের প্রতিনিধিদের দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভাড়াবৃদ্ধি-সমেত পরিবহণ শিল্পের বিভিন্ন সমস্যার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটসের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি পরিবহণ ক্ষেত্রের সমস্যাগুলি নিয়ে কার্যকর আলোচনা হচ্ছিল না। নতুন পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে সেই অচলাবস্থা দূর হয়েছে। ভাড়াবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন টোল ট্যাক্স, টোটো ও অটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং পুলিশের একাংশের হয়রানির অভিযোগও মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনের দাবি, পরিবহণমন্ত্রী বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সূত্রেই ১৭ জুন দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের মতে, ওই বৈঠকও ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই দফায় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সমস্যার তালিকা লিখিতভাবে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাসমালিকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান হলে রাজ্যের রাস্তায় আরও বেশি সংখ্যক বাস নামানো সম্ভব হবে। সরকারও গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উদ্যোগী বলে তাঁদের দাবি। ফলে বাস পরিষেবার উন্নতির পাশাপাশি যাত্রী পরিষেবাও আরও স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

সংগঠনের বক্তব্য, আর্থিক ক্ষতির কারণে বহু বাসমালিক গত কয়েক বছরে এই ব্যবসা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের ফলে তাঁদের অনেকেই আবার পরিবহণ ব্যবসায় ফিরতে আগ্রহী হতে পারেন। বেসরকারি পরিবহণ শিল্পকে চাঙ্গা করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পরিবহণমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও উদ্যোগের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বাসমালিক সংগঠনগুলি।


Share