West Bengal Day

তোষণের রাজনীতির জন্য কমিউনিস্টরা ইতিহাসের ‘হোয়াই ওয়াশ’ করে দিয়েছে, হুগলির সভায় বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, “তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবেই আমরা একটি তারিখকে মনে করছি না। গোটা ইতিহাসকেই মনে করছি। বাংলার এই সংস্কৃতিকে মনে করছি। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের কী গুরুত্ব তা বারবার বলতে হবে। সেই সময় কী হয়েছিল তা যুবসমাজের জানার দরকার রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ০৮:৪০

কমিউনিস্টরা পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। আসল ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বাঙালিদের ওপর বিদেশের ভাবধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এই ভূমির আসল ইতিহাস মাটির তলায় চাপা পড়ে গিয়েছে। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে বক্তব্য রাখার সময় স্পষ্ট জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে রাজ‍্য সরকার। সরকারের উদ্যোগে এই প্রথম হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা হয়। সেই সভার আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “গোলামির নামে বাংলা অনেক কিছু সহ‍্য করেছে। বলিদান দিয়েছে। ১৯৪৬ সালে কলকাতা এবং নোয়াখালিতে দাঙ্গা হয়েছে। কত বাঙালি (হিন্দু) প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ‍্য করেছে। তাঁরা নিজের মানুষকে হারিয়েছেন। নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছেন। তারপরেও বাংলা তাঁর পরিচয় এবং অস্মিতাকে ভুলতে দেয়নি।”

প্রধানমন্ত্রী জানান, যখন দেশভাগ করার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ তৈরি করে তাঁদের পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিয়েছেন শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায়। যখন গোটা অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ষড়যন্ত্রীদের পায়ের কাছে পড়ে গিয়েছিল। আর সেই সময়ই শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ‍্যায় সরব হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৯ এপ্রিল ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করিয়েছিলেন। সংবিধান সভায় তিনি বলেছিলেন, গোটা বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না। এই কারণকে সামনে রেখে ‘বাঙালি হিন্দু হোমল‍্যান্ড আন্দোলন’ শুরু হয়। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই আন্দোলনের সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, যদুনাথ সরকার এই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন। কত লেখালেখি হয়েছে। বন্দেমাতরমের ভাবনাকে তাঁরাই পুনরায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন বলেও এ দিনের সভা থেকে জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

কমিউনিস্ট শাসনকালে ইতিহাসের বই থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ভারতের রাজনীতিতে মার্ক্স, লেনিনদের চিন্তাধারাকে কার্যত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যে ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িকতা যুক্ত রয়েছে তাতে ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’-এর স্বাদ প্রয়োগ করা হয়েছে। ইতিহাসের পাতাকে কমিউনিস্টরা তাঁদের আদর্শবাদের প্রচারপত্র বানিয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার আসার পরেও তা পরিবর্তন হওয়া তো দূরের কথা শিক্ষা দফতরের বামপন্থী শিক্ষকদের দাপট আরও বেড়েছে। ঘটনাচক্রে, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত‍্য বসু নিজেও একজন কমিউনিস্ট।

স্বাধীনতার আগে যে কাজটা তাঁরা করেছিলেন পরে এই ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বদলে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ভাবে তার উল্টোটা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায়, তোষণের রাজনীতি করবে বলেই তাঁরা (কমিউনিস্টরা) এই কাজ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তোষণের রাজনীতি করবে বলেই ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ধর্মীয় কারণেই ইতিহাসকে হোয়াইট ওয়াশ করে দেওয়া হয়েছে।” 

এ ছাড়াও, প্রথমে কমিউনিস্ট পরে তৃণমূল ইতিহাসকে বিকৃত করে পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা বানিয়ে দিয়েছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “স্বাধীনতার আগে যে পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেবে বলেও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।” তিনি মনে করেন, সেই প্রভাব এখনও এই মাটিতে রয়েছে। এমনকী, জীবন্ত রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, “তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবেই আমরা একটি তারিখকে মনে করছি না। গোটা ইতিহাসকেই মনে করছি। বাংলার এই সংস্কৃতিকে মনে করছি। তাই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের কী গুরুত্ব তা বারবার বলতে হবে। সেই সময় কী হয়েছিল তা যুবসমাজের জানার দরকার রয়েছে।”


Share