Mysterious Death

দুর্গাপুরে বেসরকারি কারখানার জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার যুবকের দেহ, মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা

কারখানা কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বললেও মৃতের পরিবার ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর
  • শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ০৩:১৬

জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার এক যুবক কর্মীর দেহ। দুর্গাপুরের বামুনাড়া শিল্পতালুকে একটি বেসরকারি কারখানায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম পার্থ দত্ত (২৩)। রবিবার সকালে সহকর্মীরা ট্যাঙ্কের ভিতরে দেহটি দেখতে পান। তার পরই দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পরে কাঁকসা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থ দত্তের বাড়ি বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার কেদুয়াডিহি গ্রামে। তিনি প্রায় দু’বছর ধরে বামুনাড়া শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানায় কাজ করছিলেন। কারখানা চত্বরে কর্মীদের থাকার ঘরেই থাকতেন। পরিবারের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। শনিবার পার্থর বাবা ফটিক দত্ত ছেলের খোঁজে কারখানায় আসেন। তবে অভিযোগ, তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।এরপর রবিবার সকালে তাঁর দেহ সন্ধান মেলে। তাঁর সহকর্মীরা কারখানার জলের ট্যাঙ্কের ভিতরে পার্থর দেহ দেখতে পান। কাঁকসা থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

ঘটনা নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, পার্থ দত্ত আত্মহত্যা করেছেন। কারখানার ডিরেক্টর শুভদীপ মণ্ডল বলেন, তাঁদের প্রাথমিক ধারণা পার্থ কারখানার জলের ট্যাঙ্কে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই দাবি মানতে নারাজ মৃতের পরিবার। পার্থর বাবা ফটিক দত্ত জানান, কী ভাবে তাঁর ছেলের মৃত্যু হল তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না।পরিবারের তরফে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। 

এদিকে, শ্রমিক সংগঠনগুলিও ঘটনার তদন্তের দাবি তুলেছে। আইএনটিটিইউসি নেতা বিকাশ রায় বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যার কথা বললেও প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মৃত কর্মীর পরিবার যাতে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়, সেই দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাঁকসা থানার পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।


Share