DA Case

বিধানসভা ভোট ঘোষণার আগেই বকেয়া ডিএ দিয়ে দেবে রাজ্য সরকার, মার্চ থেকেই শুরু, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ডিএ নিয়ে পোস্ট করেন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে। চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ০৩:৫৫

রবিবার বিকেল ৪টেয় দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশিত হবে। আর তার আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন তিনি সমাজমাধ্যমে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয় নিয়ে পোস্ট করেন। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পুরোনো ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে। চলতি মাস থেকেই ডিএ দেওয়া শুরু হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, আমাদের মা-মাটি-মানুষ সরকার তার সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অনুদানপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করছি। আমাদের অর্থ দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। তাতে বিস্তারিত ভাবে লেখা রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সকলেই তাঁদের ‘রোপা ২০০৯’-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পেতে শুরু করবেন।”

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ইস্যুতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। বাকি অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা নির্ধারণের জন্য প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল আদালতের তরফে। যদিও পরে রাজ্য সরকার ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায়। এখনও সেই মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়নি। এরই মধ্যে ভোট ঘোষণার ঠিক আগে মুখ্যমন্ত্রী বকেয়া ডিএ প্রদান শুরু করার কথা ঘোষণা করলেন।

পশ্চিমবঙ্গে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন বহু দিনের। ২০০৯ সালের বেতন কাঠামো বা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সমান হারে ডিএ প্রদানের দাবিও তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। ২০২২ সালে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়। আদালত স্পষ্ট জানায়, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার এবং তা অস্বীকার করা যায় না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, শীর্ষ আদালতও ডিএ প্রদানের পক্ষেই মত দেয়। এরপর বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালায় রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র কটাক্ষ করেন। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘কী ভয়ঙ্কর প্রহসন! নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার ঠিক কয়েক মিনিট আগে হঠাৎ করে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কথা মনে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ‘২০২৬-এর মার্চ থেকে’ দেওয়া হবে? বছরের পর বছর রাজ্যের কোষাগার লুট করার পর, কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করার পর এটা আপনার শেষ মুহূর্তের মরিয়া রাজনৈতিক কৌশল।’’ শুভেন্দুর দাবি, বাস্তবে এক পয়সাও দেবে না রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘‘এটা মানুষকে বোকা বানানোর জন্য আপনার অর্থ দফতরের একটা বিজ্ঞপ্তিমাত্র। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রহসন। পশ্চিমবঙ্গ দেখছে।’’


Share