TMC

মগরাহাটে ‘গোপন বৈঠক’ বিতর্কে রাজনৈতিক ঝড়! পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে তৃণমূলের মামলা, অভিষেকের হুঁশিয়ারির পরেই আইনি পদক্ষেপ

দাবি করা হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল নিয়ম ভেঙে ওই লজেই অবস্থান করেছিলেন ওই আইপিএস অফিসার এবং সেদিনই এই বৈঠক হয়। তৃণমূলের তরফে কিছু দিন আগে এই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার সেই ঘটনাকেই ভিত্তি করে আদালতের দ্বারস্থ হল তারা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৬

মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের গোপন বৈঠকের অভিযোগ আগেই তুলেছিল তৃণমূল। সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই এ বার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করল শাসকদল। রবিবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষককে ‘টানতে টানতে আদালতে’ নিয়ে যাওয়া হবে। তার পরের দিনই আইনি পদক্ষেপ করল তৃণমূল।

দলের অভিযোগ, আইপিএস অফিসার পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাস মগরাহাট পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী গৌর ঘোষের সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা টুরিস্ট লজে গোপন বৈঠক করেছেন। দাবি করা হয়েছে, গত ২০ এপ্রিল নিয়ম ভেঙে ওই লজেই অবস্থান করেছিলেন ওই আইপিএস অফিসার এবং সেদিনই এই বৈঠক হয়। তৃণমূলের তরফে কিছু দিন আগে এই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। এবার সেই ঘটনাকেই ভিত্তি করে আদালতের দ্বারস্থ হল তারা।

রবিবার ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গ তুলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘ভেবেছিল চুপিচুপি মিটিং করবে, আর কেউ জানবে না। আরে ডায়মন্ড হারবারের আকাশে-বাতাসে, লতায়-পাতায় আমি আছি। যে পুলিশ অবজ়ার্ভার এটা করেছে, তাকে টানতে টানতে কোর্টে নিয়ে যাব।’’ সেই মন্তব্যের পরেই দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেয় তৃণমূল।

মামলায় তৃণমূল জানিয়েছে, পরমার স্মিথ পরসোত্তমদাস ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত। এই পদ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন হওয়ার কথা। অথচ অভিযোগ, তিনি নিজের দায়িত্বাধীন এলাকার এক প্রার্থীর সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আলিপুরের আইপিএস মেসে থাকার কথা থাকলেও, তা অমান্য করে তিনি ডায়মন্ড হারবারের ওই লজে ওঠেন, যেখানে বৈঠকটি হয় বলে দাবি। মামলাকারীর পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে।

তৃণমূলের দাবি, এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক নিয়মের পরিপন্থী এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার উপর প্রশ্ন তোলে। এতে মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। সেই কারণেই বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এর আগেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ তথা প্রাক্তন ডিজি রাজীব কুমার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, পুলিশ পর্যবেক্ষকদের মৌখিক নির্দেশে ৫০০-রও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দল এই পরিস্থিতি মেনে নেবে না এবং আইনি পথেই জবাব দেবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতাতেই এবার সংশ্লিষ্ট আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা দায়ের করা হল।


Share