President of India

‘আমার ওপর মমতাদির কেন রাগ?’ আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সের অনুষ্ঠানে এসে রাজ‍্য সরকারের ভূমিকায় উষ্মাপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি মুর্মুর

রাষ্ট্রপতি চলে গিয়েছিলেন ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে। যেখানে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকেই রাজ্য সরকারকে নিশানা করে একাধিক মন্তব্য করেছেন।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০

শনিবার সাঁওতাল কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁকে স্বাগত জানাতে এক জনও রাজ‍্য সরকারের তরফে আসেননি। আর তা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, “জানি না, মমতাদির আমার উপর কেন রাগ!”

রাষ্ট্রপতি হিসাবে এই প্রথম বার উত্তরবঙ্গ সফরে এলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর যাওয়ার কথা ছিল শুক্রবার। কিন্তু কোনও কারণে সেই সফর পিছিয়ে যায়। শনিবার বাগডোগরায় অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। এ রাজ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত জায়গায় এই অনুষ্ঠান হয়নি। ফাঁসিদেওয়ায় ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখানেই চলে যান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী। সেখান থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মুর্মু বলেন, “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা (অনুষ্ঠান করার) নেই। এখানে তো পাঁচ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!” তার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোটবোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক...কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।”

বাগডোগরা এয়ারপোর্ট অথরিটির মাঠে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। ফাঁকা পড়ে ছিল অধিকাংশ চেয়ার। সেখানে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটা যে একটা ইন্টারন্যাশনাল সাঁওতাল কনফারেন্স, দেখে মনেই হচ্ছে না!”পাশাপাশি তিনি বলেন, “আমার দেখে মনে হচ্ছে না, সাঁওতাল সমাজ বা আদিবাসী সমাজের মানুষের সরকারি কোনও সুযোগ সুবিধা পান। আদৌ সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা তাঁরা পান কি না, তা নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।”

এর পর রাষ্ট্রপতি চলে গিয়েছিলেন ফাঁসিদেওয়ার বিধাননগরে। যেখানে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। রাষ্ট্রপতি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সেখান থেকেই রাজ্যকে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে ছোট জায়গার জন্য অনুমতি মেলেনি বলে জেনেছি। কিন্তু এখানে তো কয়েক লক্ষ মানুষ শামিল হতে পারবেন। আমি আসতে চাই। কিন্তু জানি না আমার উপর মমতা ব্যানার্জির এত রাগ কেন? আমিও এই বাংলারই মেয়ে। মমতা ব্যানার্জি আমার বোনের মতো।”

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনিও রাজ্যকে নিশানা করে বলেন, ‘‘দেশের রাষ্ট্রপতি আসছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নেই!’’ রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্য সওয়াল করেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ।

এ দিন জনজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্স আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং সরকারি প্রোটোকলও মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, তাঁর আগমনের সময় রাজ্য সরকারের কোনও প্রতিনিধি তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন না। রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্যের পরে রাজ‍্য সরকারকে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।


Share