TMC Crisis

‘মহারাষ্ট্র মডেল’, তৃণমূলে ৫০ জন বিধায়ক বেসুরো, সাক্ষর নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে ঋতব্রত

বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় আরও বলেন, "তৃণমূলের শোচনীয় অবস্থা। দু'টো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতাকেও ডিফাই-ডিনাই, অভিষেককে তো বটেই। ফলাফল প্রকাশের পর এক মাসও হয়নি, এরকম একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) সন্দীপণ সাহা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৪:৩৫

তৃণমূলের অন্দরে চরমে উঠেছে বিদ্রোহ। এক-দু’জন নয়, বেসুরো তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়ক। রাজ‍্যের প্রধান বিরোধী দলের অন্দরে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তাঁদের নামের তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। সেই রেজুলেশনে ইতিমধ্যেই ৫০ জন স্বাক্ষর করে ফেলেছেন বলেই সূত্রের খবর।

জানা যাচ্ছে, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সেই রেজুলেশন মঙ্গলবারই স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ-ও জানা যাচ্ছে, প্রয়োজনে সেই কর্মসূচি পিছিয়ে যেতে পারে। তা যদি হয় তাহলে আগামীকাল, বুধবার সেই রেজুলেশন জমা দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, এই ৫০ জনের দলনেতা হতে পারেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিধায়কদের দাবি, ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি চান তাঁরা।

এই নিয়ে মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ‍্যের মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “তৃণমূল যেভাবে চলছিল, তাতে এটা প্রত্যাশিত ছিল। এটা একেবারেই ওদের দলীয় ব্যাপার। এই নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যাথা নেই। তৃণমূল এ ভাবেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।” 

বিধানসভা সূত্রের খবর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছোলেও স্পিকার ছিলেন না। তার ঠিক কিছু ক্ষণের মধ্যেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তাপস রায়। বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, "তৃণমূলের শোচনীয় অবস্থা। দু'টো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতাকেও ডিফাই-ডিনাই, অভিষেককে তো বটেই। ফলাফল প্রকাশের পর এক মাসও হয়নি, এরকম একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এটা হবে, এটা ঘটবে। কারণ তৃণমূল নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে, গুজরাত, বিহার, দিল্লি থেকে অরাজনৈতিক লোকজনকে নিয়ে এসে রাজ্যসভা, লোকসভায় পাঠানো। এতদিন দমবন্ধ পরিস্থিতিতে সহ‍্য করেছে। এখানেও কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেয়র, মন্ত্রিসভা যারা ছিল, তারা একেবারেই অরাজনৈতিক। রাজনীতির লোকই নয়। একটা আধটা হলে হতো। সেই রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।"

প্রশ্ন উঠেছে, ৫০ জন এভাবে বিদ্রোহ ঘোষণা করলে সমীকরণ কী হতে পারে? তাপস রায় এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “এ ক্ষেত্রে ৮০ জনের মধ্যে ৫০ জন কোনও দাবি জানালে, সেই দাবিই মান্যতা পাবে।” রাজ্যের আরেক মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, তৃণমূল পাপের ফল ভোগ করছে।

বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “আমরা কেউ কিন্তু নির্দল হয়ে জিতে আসিনি। একজন ৭১ বছর বয়সী মহিলাকে ছুটিয়ে, তাঁর পোস্টার দিয়ে, আমরা বিধায়ক হয়ে এসেছি। কোনও বিবেক নেই?” তবে এমন কিছু ঘটছে না বলে দাবি করেছেন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঋতব্রত বলেন, “এমন যদি হয়ে থাকে তাহলে আমি তো খুবই পাওয়ারফুল (ক্ষমতাশালী)। আমার কাছে এমন কোনও খবর নেই।”

এর আগে, মহারাষ্ট্রে এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। উদ্ধব ঠাকরের শিবির ভেঙে, বিদ্রোহীদের ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন একনাথ শিন্ডে। শিবসেনা ভেঙে চুড়মার হয়ে দু'টি পৃথক দলের সৃষ্টি হয়। একটি শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে) এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)। তৃণমূলের তেমন পরিণতি হয় কি না তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।


Share    

TMC