Donald Trump

‘সবার ছবি-সহ ভোটার কার্ড’, জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে ভারতের ভোট ব্যবস্থার প্রশংসা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের

ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, আমেরিকায় কীভাবে বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়াই ভোট দেওয়া সম্ভব হয়।

ডোলান্ড ট্রাম্প ও জ্ঞানেশ কুমার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৫

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং ভোটদানের সময় ছবি-সহ পরিচয়পত্র ব্যবহারের প্রশংসা করেছেন। ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নামে ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত একটি কঠোর আইন পাস করাতে সোমবার আমেরিকার কংগ্রেসের উপর চাপ বাড়াতে গিয়ে তিনি ভারতের উদাহরণ টানেন।

ট্রাম্প বলেন, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছেন, আমেরিকায় কীভাবে বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়াই ভোট দেওয়া সম্ভব হয়। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আমেরিকার জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবেও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন।

চলতি মাসের গোড়ায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরে আমেরিকার আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছিল, তা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্টে তুলে ধরেছেন।

ট্রাম্প লেখেন,  'এই মাসের শুরুর দিকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন আয়োজন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে এক শতাংশেরও কম ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন এবং প্রত্যেক ভোটারের কাছেই একটি বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের এখনই 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাস করতে হবে!'

আমেরিকা সফর শেষে দিল্লিতে ফিরে ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সারজিও গরের সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বৈঠক করেন। বৈঠকে আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার বিষয়ে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন আমেরিকার আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দেবে।

প্রসঙ্গত, ভারতে ভোটার পরিচয়পত্র চালুর ক্ষেত্রে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন সেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তাঁর কার্যকালে সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে পুরো দেশে ভোটদানের ক্ষেত্রে সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে।

নির্বাচন ব্যবস্থায় সংস্কার-সহ একাধিক আইনি পদক্ষেপ কার্যকর করতে ট্রাম্প প্রশাসন ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। প্রস্তাবিত আইনে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার আগে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র এবং ভোট দেওয়ার সময় ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখানোর বিধান রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আমেরিকার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও, সিনেটে তা অনুমোদন পায়নি।

আমেরিকায় ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির বৈধতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের মতো কঠোর ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু নতুন ভোটারদের নয়, বর্তমানে ভোটার তালিকায় থাকা নাগরিকদের তথ্যও নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হতে পারে। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ভারতে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার কিছুটা মিল রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন।

অন্য দিকে, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’-এর সমালোচকদের দাবি, বর্তমান আইনেই অ-নাগরিকদের ভোটদান নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের আরও বক্তব্য, অনেক নথিভুক্ত ভোটারের কাছেই প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নেই।

আমেরিকার গবেষণা সংস্থা ‘বাইপার্টিজান পলিসি সেন্টার’-এর তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ১২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটারের কাছে জন্মসনদ বা বৈধ পাসপোর্টের মতো সাধারণ পরিচয়পত্র নেই। সংস্থাটির আরও যুক্তি, ভোটারদের নথিপত্রের বৈধতা যাচাই করতে যে বিপুল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হবে, তা বর্তমানে নির্বাচন কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।

সংস্থার আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কঠোর আইন চালুর পর প্রায় ৩১ হাজার যোগ্য আমেরিকার নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।


Share