Kasba Body Recovery

গাড়ির ভিতরেই প্রায় চার মাস ধরে দেহ পড়ে থাকার পরেও টের পেল না স্থানীয়েরা! প্রশ্ন অনেক, উত্তরের খোঁজে তদন্তকারীরা

রাজডাঙা মেন রোডের ওপরে একটি পরিত্যক্ত গ‍্যারাজে রাখা গাড়ির ভিতরে দেহ রয়েছে, তা দেখতে পান। দেহটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। দেহটিকে উদ্ধার করতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে ডাকা হয় লালবাজারের গোয়েন্দাদের।

অডি গাড়ি থেকে দেহ উদ্ধার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কসবা
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০৯:০৭

গত ৪ নভেম্বর কসবার রাজডাঙা মেন রোডের একটি পরিত‍্যক্ত গ‍্যারেজ থেকে পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার দু’দিন কেটে গেলেও মৃতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তবে দেহটি তিন থেকে চার মাস ধরে ওই অডি গাড়িটিতেই ছিল বলে জানা গিয়েছে। কী ভাবে দেহটি গাড়িতে এল তার উত্তরই খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

গত বুধবার দুপুরে স্থানীয়েরা কসবা থানায় ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। রাজডাঙা মেন রোডের ওপরে একটি পরিত্যক্ত গ‍্যারাজে রাখা গাড়ির ভিতরে দেহ রয়েছে, তা দেখতে পান। দেহটি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। দেহটিকে উদ্ধার করতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। ঘটনাস্থলে ডাকা হয় লালবাজারের গোয়েন্দাদের। তাঁরা ঘটনাস্থল পরীক্ষা করে। গোয়েন্দা বিভাগের সায়েন্টিফিক উইং-এর আধিকারিকেরাও ঘটনাস্থলে যান। তার পরে দেহটিকে সাবধানতা অবলম্বন করে ময়নাতদন্তের জন‍্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেই ঘটনার দু’দিন কেটে গিয়েছে। তার পরেও দেহটি কার, কী পরিচয় তা এখনও তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানতে পারেনি। তবে দেহটি যে একটি ব‍্যক্তির সেইটুকুই জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, তিন থেকে চার মাস আগে ওই ব‍্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সেই থেকে গাড়ির ভিতরেই পড়ে ছিল। সাধারণত দু-তিন দিন পরেই মৃতদেহ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া শুরু হয়। তা হলে, প্রায় ১২০ দিন ধরে কী ভাবে একই জায়গায় দেহ পড়ে রইল, দেহ পড়ে রয়েছে, তা স্থানীয়দের নজরে কী করে এল না তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও উত্তর মিলছে না। তদন্তের বিন্দুগুলি মিলিয়ে দেখছে পুলিশ। 

যে দেহটি গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছিল তা একেবারেই খারাপ অবস্থায় ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর প্রায় চার মাস ধরে পড়ে থাকার কারণে দেহের চামড়া-মাংসতে গলতে শুরু করেছে। অন‍্য মৃতদেহের ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে যে কাজটা সহজ হয়, এ ক্ষেত্রে সেটা করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বলে খবর। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকেরা মনে করছেন, দেহের যদি এমন অবস্থার হয় তার জন্য খুব সাবধানতা অবলম্বন করে কাজ করতে হয়। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ারও বিধান রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ময়নাতদন্তের জন‍্য কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। 

অন‍্য দিকে, স্থানীয়েরা দাবি করেছিল, দেহটি এক ভবঘুরের। অনেক দিন ধরেই তাঁকে এলাকাতে দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের সন্দেহের দিকটিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। আবার ভবঘুরে মানে আজ এক জায়গায় আগামীকাল অন‍্য কোথাও চলে যেতে পারে। যদি ভবঘুরে সেখান থেকে চলে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে দেহটি কার— সেটাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তাঁরা। ওই গ‍্যারেজ চত্বরে কারা আসা-যাওয়া করেছে তা খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

দেহটি যখন উদ্ধার করা হয়, গাড়ির চারটি দরজায় লকই খোলা ছিল। কাচ ওপরে ওঠানো ছিল। তা হলে কী ওই ব‍্যক্তি নিজে থেকেই ভিতরে ঢুকেছিলেন, ঢোকার পরে দমবন্ধ হয়ে সেখানেই প্রাণ হারান তা জানার জন‍্য ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। আবার তাঁকে গাড়িতে খুন করা হয়েছে নাকি অন‍্য কোথাও খুন করে গাড়িতে রাখা হয়েছে সেটাও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছিল, যে গাড়িটি থেকে দেহটি উদ্ধার করা হয়েছিল, সেটি পুরোনো লাল রঙের অডি। গাড়িটিতে কোনও নম্বর প্লেট ছিল না। চারিদিকে পড়ে গিয়েছিল ধুলো। সেই গাড়িটিকে ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, গাড়িটির চেসিস নম্বর দেখে মালিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা। নাম রাজেশ সিংহ। তাঁর সাথেও পুলিশ কথা বলেছে।

অডি গাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজেশ গাড়িটিকে ২০১৭ সালে বিক্রি করে দিয়েছিলেন। কাকে বিক্রি করেছিলেন তা স্পষ্ট করেনি পুলিশ। ২০১৯ সাল পর্যন্ত গাড়িটি চলেছিল। তার পর থেকে আর চলেনি। অডি গাড়িটির স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো ছিল না তাই রাজেশ তা বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। তবে গাড়িটি না চললে নম্বর কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ঘটনাস্থল থেকে কোনও নম্বর প্লেট উদ্ধার করা হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। 


Share