Assembly Election 2026

ভোটে হিংসা ঠেকাতে দ্বিমুখী কৌশল কমিশনের, আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চলেছে নির্বাচন সদন

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনের ভোটে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বাধিক। ২০০১ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে ভোটের পর্ব বাড়লেও, এ বার মাত্র দুই দফায় নির্বাচন হলেও বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৬:৫৯

ভোটকে ঘিরে হিংসা ঠেকাতে এ বার দ্বিমুখী কৌশল নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একদিকে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে অতীতে ভোট ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ রয়েছে এমন এলাকার দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে রাজ্য পুলিশের কাছে। এর লক্ষ্য স্পর্শকাতর বুথের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও পুলিশি দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনা। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত সোমবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ভোটকে কেন্দ্র করে যে অশান্তি ও হিংসার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এ বার তাতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা থাকবে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনের ভোটে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বাধিক। ২০০১ সালের পর থেকে ধাপে ধাপে ভোটের পর্ব বাড়লেও, এ বার মাত্র দুই দফায় নির্বাচন হলেও বাহিনীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম দফায় ১৫২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি কেন্দ্রে প্রায় সমসংখ্যক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটে হিংসা রুখতে কমিশন ইতিমধ্যেই প্রায় ছ'হাজার ৫০০ বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অতীতে যেখানে ভোটের আগে, ভোটের দিন বা ফল ঘোষণার পরে অশান্তির অভিযোগ উঠেছে, সেই সব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারদের তালিকা চেয়ে রাজ্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে হিংসার অভিযোগ থাকা এলাকার ওসি ও সুপারভাইজিং অফিসারদের নাম সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিশনের বার্তা স্পষ্ট, ভোট শেষ হয়ে গেলেও দায় এড়ানো যাবে না। কোনও এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা হলে সংশ্লিষ্ট অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ করা হবে। তাই ভোটের দিন শুধু রাজ্য পুলিশ বা প্রশাসন নয়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার উপরেও সমান নজর রাখা হবে। কোথাও গোলমালের খবর এলে বাহিনী কত দ্রুত পৌঁছচ্ছে, সেটিও পর্যবেক্ষণে থাকবে।

এদিকে রাজ্য প্রশাসনের সাম্প্রতিক বদলিগুলিও কমিশনের নজরে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর কোন কোন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও নির্দেশিকার প্রতিলিপি কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কোনও পুলিশ আধিকারিককে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই দু’দফায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জেলায় তাদের টহলদারি ও ভোটারদের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার কাজে লাগানো হচ্ছে। বাহিনীর চলাচল যাতে সঠিক ভাবে হয়, তার জন্য ভোটের আগে ও ভোটের দিন বিশেষ কন্ট্রোলরুম থেকে নজরদারি হবে। ওয়েবক্যাম এবং জওয়ানদের বডিক্যামের মাধ্যমেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

কমিশনের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বুথ থাকলে সেখানে চার জন এবং দুটি বুথ থাকলে আট জন কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হতে পারে। বুথের সংখ্যা অনুযায়ী বাহিনীর শক্তি বাড়ানো হবে। কোন জেলায় কত বাহিনী যাবে, সে বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 


Share