Election Commission of India

রাজ্যে হিংসা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, নির্দেশ দেশের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের

পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ১২:২৮

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিংসা ও অশান্তির খবর সামনে আসতেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অশান্তিতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ফল ঘোষণার পর রাত থেকেই রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিতে শুরু করে। ভাঙড়, বারুইপুর, হাওড়া এবং নানুর-সহ একাধিক এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, আবার কোথাও শাসকদলের কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন রাজ্যের দুই প্রান্ত থেকে খুনের খবর পাওয়া যায়। একদিকে তৃণমূল কর্মী খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর খবর এই জোড়া ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যসচিব, পুলিশ প্রধান এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সর্বক্ষণ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেলকেও সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলাকাভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার।

এদিকে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে পাল্টা অভিযোগের পালা। তৃণমূল কংগ্রেস অধিকাংশ ঘটনার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনওরকম গাফিলতি মেনে নেওয়া হবে না। এখন প্রশ্ন এই কড়া বার্তার পর রাজ্যে শান্তি ফেরে কি না।


Share