TMC Political Crisis

ব্লকের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতেই চলছিল মহুয়ার বৈঠক, বাইরে থেকে সাংসদকে লক্ষ‍্য করে ডিম-বেগুন নিক্ষেপ, অন্তর্ঘাত বলে দাবি দলেরই একাংশের

মহুয়া দাবি করছেন, “নীচে বিজেপির কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। তাঁরা আমাকে লক্ষ্য করে ডিম-বেগুন ছুঁড়ছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে ডিম ছুঁড়ছে বিজেপির কর্মীরা। কালো পতাকা দেখাচ্ছে।”

মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম-বেগুন নিক্ষেপ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কালীগঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৬:০০

নেই স্থানীয় বিধায়ক। নেই ব্লকের তৃণমূলের নেতা। তার মধ‍্যেই কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র কয়েক জনকে নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এর মধ্যেই বাইরে লোকজন জড়ো হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম, বেগুন ছোঁড়া হয়। তৃণমূল সাংসদের দাবি, তাঁরা বিজেপির কর্মী। মহুয়ার এমন মন্তব্য মানতে নারাজ তৃণমূলেরই একাংশ। তাঁদের দাবি, ভরাডুবির পরে তিনি সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ পেতে চাইছেন।

বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জের মিরা বাজার এলাকায় পৌঁছোন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানে বিধায়কের কার্যালয়ে দলীয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জানা গিয়েছে, দলীয় বৈঠকে ব্লকের সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায়, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন উপস্থিত ছিলেন না। যদিও তাঁদের বাড়ি ওই এলাকাতেই। তৃণমূল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, বিধায়কের কার্যালয়ে বৈঠকের আয়োজন করা হলেও স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা সবাই মহুয়া মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলেই নদিয়ার রাজনীতিতে পরিচিত। গুটি কয়েক তৃণমূল নেতা-কর্মীকে নিয়ে সেখানে বৈঠক করেন। প্রসঙ্গত, যে সম্পত্তিতে বিধায়কের কার্যালয় রয়েছে, ওই বাড়ির অপর একটি অংশে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে এক সময় পুলিশ অভিযান চালিয়েছিল। 

ঘটনাচক্রে যে সময় বৈঠক চলছি, সেই সময় বাইরে বেশ কয়েক জন জড়ো হন। নীচ থেকে মহুয়া মৈত্রকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভ দেখান। তিন তলায় থাকা দফতরের জনালা লক্ষ‍্য করে ডিম, বেগুন, কাদা, গোবর ছোঁড়া হয়। গোটা ঘটনাটি ওপর থেকে সমাজমাধ্যমে ক‍্যামেরাবন্দী করেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাতে তিনি দাবি করছেন, “নীচে বিজেপির কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। তাঁরা আমাকে লক্ষ্য করে ডিম-বেগুন ছুঁড়ছে। পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে ডিম ছুঁড়ছে বিজেপির কর্মীরা। কালো পতাকা দেখাচ্ছে।”

যদিও তৃণমূলেরই একাংশের বক্তব্য, মহুয়া মৈত্রের ডাকা বৈঠকে বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন না। ব্লকের সভাপতিই ছিলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূলের নেতার কথায়, কৃষ্ণনগরে তৃণমূলের এই ভরাডুবি অন‍্যতম কারন মহুয়া মৈত্র। তাই নিজের দোষ চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কারা সাংসদকে ডিম, বেগুন ছুঁড়ে মারল, তা তদন্ত করে দেখা হোক। সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ টানতেই তিনি নিজেই লোক জড়ো করেছিলেন কি না তা-ও তদন্তের আয়তায় আনা হোক বলেও দাবি করেন ওই তৃণমূল নেতা। 

এই ঘটনা নিয়ে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভাপতি বলেন, “সাংসদ এতদিন যা অপকর্ম করেছেন, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি হিন্দু দেবদেবীদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, সাধারণ মানুষ তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ।” তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন অর্জুন বিশ্বাস।


Share