Murder Case

ফোনে কথা বলা ঘিরে সন্দেহ, নরেন্দ্রপুরে গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ

ফোনে কথা বলা নিয়ে স্বামীর সন্দেহ থেকেই নরেন্দ্রপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৫:৩৭

ফোনে কথা বলা নিয়ে শুরু হওয়া পারিবারিক অশান্তি শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী পরিণতি নিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর সন্দেহ থেকেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির চার সদস্যের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম শুভ্রা সর্দার। তিনি বারুইপুর থানার কাটাখাল এলাকার বাসিন্দা। সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে রানা সর্দারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি নরেন্দ্রপুরের কেলেগোড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই পরিবারের সম্মতিতেই শুভ্রা ও রানার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তির শুরু হয় বলে অভিযোগ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুভ্রা ফোনে কথা বললেই স্বামী রানা সন্দেহ করতেন। তাঁর ধারণা ছিল, স্ত্রী পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। এই সন্দেহ থেকেই প্রায়ই দম্পতির মধ্যে বচসা লেগেই থাকত। এরই মাঝে গত সপ্তাহে পৌষমেলা উপলক্ষে শুভ্রা বাপের বাড়িতে যান। রবিবার শ্বশুর ভদ্রেশ্বর সর্দার তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু তার পরদিন, সোমবারই পরিবারের কাছে আসে মেয়ের মৃত্যুর খবর।

মৃতার পরিবারের দাবি, শুভ্রার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস, এটি কোনও স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত খুন। এই ঘটনায় মৃতার বাবা মনা সর্দার নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্বামী রানা সরদার, শ্বশুর ভদ্রেশ্বর সরদার, শাশুড়ি সুক্কুলি সরদার এবং ভাসুর রাকেশ সরদারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে নেমেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


Share