TMC Party Office

পূর্ব বর্ধমানে তৃণমূল কার্যালয় থেকে কার্তুজ, প্রাক্তন বিধায়কের অফিসে ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য

রায়নার একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, মেমারিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বন্ধ অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী, চাকরিপ্রার্থীদের বায়োডেটা এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা সরকারি লেটারহেড উদ্ধার হয়েছে।

নথি হাতে মানব গুহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান
  • শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১২:৫৫

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই বহু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ভিন্ন ভিন্ন ঘটনায় বেশ কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছে। এই আবহে পূর্ব বর্ধমানের দুই পৃথক ঘটনায় এবার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রায়নার একটি তৃণমূল কার্যালয় থেকে তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে।পাশাপাশি মেমারিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বন্ধ অফিস থেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ও স্বাক্ষর করা ফাঁকা সরকারি নথি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে মাধবডিহি থানার পুলিশ রায়না-২ ব্লকের গোতান পঞ্চায়েতের কামারহাটি গ্রামের একটি তৃণমূল কার্যালয়ে তল্লাশি চালায়। অভিযানে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শুভাশিস রায়ও উপস্থিত ছিলেন। কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়। তারপর একটি আলমারি থেকে ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং আরও কিছু সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা তাপস বাগের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। তাঁর দাবি, ভোটের আগেই তিনি কার্তুজ মজুত থাকার বিষয়টি জানতেন। তবে আতঙ্কের কারণে এতদিন মুখ খোলেননি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই কার্যালয়টি প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের বাড়ির খুব কাছেই অবস্থিত।

ঘটনার খবর পেয়ে বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। সেখানে পৌঁছোন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে এলাকায় সন্ত্রাস আরও বাড়তে পারত। এই উদ্ধার হওয়া কার্তুজ সেই আশঙ্কারই ইঙ্গিত। পাশাপাশি তিনি প্রাক্তন পঞ্চায়েত মন্ত্রী এবং রায়না-২ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

অন্য দিকে, মেমারির বামুনপাড়া মোড়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্যের বন্ধ কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই অফিস থেকে প্রাক্তন বিধায়কের স্বাক্ষর করা একাধিক ফাঁকা লেটারহেড উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন সাংসদের উদ্দেশে লেখা আবেদনের জন্য ব্যবহৃত হত। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে বহু চাকরিপ্রার্থীর বায়োডেটা। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বায়োডেটাগুলি খতিয়ে দেখে পুলিশ প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে কোনও ধরনের প্রতারণা হয়েছে কি না। তা তদন্ত করে দেখা হবে। বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ দীর্ঘদিন ধরে অফিসে আটকে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি স্বাক্ষর করা ফাঁকা সরকারি প্যাড উদ্ধারের ঘটনাকেও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য তিনি আগে থেকেই কিছু ফাঁকা প্যাডে স্বাক্ষর করে রেখেছিলেন। কোনও প্রয়োজনে তিনি উপস্থিত না থাকলে সেগুলি কাজে লাগানো হত। ত্রাণ সামগ্রীর বিষয়ে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই মেমারি-১ ব্লকের বিডিও, বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমাশাসক এবং থানাকে ই-মেল মারফত জানিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, বিডিও মৌখিকভাবে ওই সামগ্রী বিতরণের কথাও বলেছিলেন।

বায়োডেটা উদ্ধারের প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক জানান, এলাকার বহু যুবক-যুবতী চাকরির আশায় তাঁর কাছে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতেন। তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়োগের অনুমোদনও করেছিলেন। যার ফলে কয়েকজন চাকরি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন।

দুই ঘটনারই প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, পুলিশ তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাগুলি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।


Share