Anandapur Fire Incident

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড ২৪ ঘণ্টা পার! এখনও রয়েছে পকেট, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করল পুলিশ

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকার গুদামে আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ওই থার্মোকল কারখানায় বিভিন্ন ডেকরেটার্স সংস্থার কাজ হতো। থার্মোকল দিয়ে বিভিন্ন নকশা, অনুষ্ঠান বাড়ির গেট-সহ বিভিন্ন কাজকর্ম চলত। কারখানার ভিতরেই ডেকরেটার্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রচুর কর্মী ছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:২২

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পর হয়ে গেলেও এখনও নেভেনি আগুন। দমকল সূত্রের খবর, একাধিক জায়গায় এখনও পকেট ফায়ার রয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু জায়গার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। এই পকেট ফায়ারের সঙ্গে মোকাবিলা করাই এখন দমকল বাহিনীর কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। 

এই বিধ্বংসী আগুনের জেরে এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ২৫ জনের বেশি নিখোঁজ। তাঁদের নামে মিসিং ডায়েরি হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। নিখোঁজ ও মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠা চরমে। ভস্মীভূত গোডাউন ও অনলাইন ডেলিভারির দোকানে থেকে উদ্ধার হয়েছে কিছু পোড়া দেহাংশ। উদ্ধার হয়েছে কঙ্কাল। কাঠামোর নীচে আরও কেউ চাপা পড়েছেন কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, মঙ্গলবারই তাঁদের দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে।

মঙ্গলবার আনন্দপুরের দুটি গুদাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্বজনকে হারিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও সদুত্তর মিলছে না বলে দাবি অনেকেরই পরিবারের সদস্যেরা। শুধু পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই ১৩ জন বাসিন্দা নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। প্রিয়জনের খোঁজে রাতভর ঘটনাস্থলেই অপেক্ষায় রয়েছেন পরিজনেরা। কারও ভাইয়ের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তো কেউ এসেছেন স্বামীর খোঁজ।

দমকলের এক আধিকারিক বলেন, "কারখানার মধ্যে কোন অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। জলাশয় বুজিয়ে এই কারখানাটি তৈরি হয়েছিল। তবে প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে বেআইনি ভাবে চলছিল ওই কারখানা। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনকেই। রাতে ঘটনাস্থলে যান সোনারপুরের বিডিও শিঞ্জিনী সেনগুপ্ত, বারুইপুরের মহকুমাশাসক চিত্রদীপ সেন এবং ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা। তাঁর এলাকায় বসবাসকারী একাধিক ব্যক্তিকে নিয়ে গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর থানায় মিসিং ডায়েরি দায়ের করা হয়।

প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের রাতে নরেন্দ্রপুর থানার নাজিরাবাদ এলাকার গুদামে আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ওই থার্মোকল কারখানায় বিভিন্ন ডেকরেটার্স সংস্থার কাজ হতো। থার্মোকল দিয়ে বিভিন্ন নকশা, অনুষ্ঠান বাড়ির গেট-সহ বিভিন্ন কাজকর্ম চলত। কারখানার ভিতরেই ডেকরেটার্স সংস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রচুর কর্মী ছিলেন। আগুনের হাত থেকে বেঁচে বের হতে পারেননি অনেকেই। সেই আশঙ্কা থেকেই ভস্মীভূত গুদামে আরও দেহ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বজনহারার হাহাকার, নিখোঁজদের নিয়ে উৎকণ্ঠা আর পোড়া গন্ধে ভারী এলাকার বাতাস।


Share