Suvendu Adhikari

নিউ মার্কেটের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর, কাঠগড়ায় পূর্বতন সরকার, ‘চরম গাফিলতি ও উদাসীনতারই পরিণতি’ অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনা আগের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া অব্যবস্থা ও গাফিলতির কারণেই এই পরিণতি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১৪

নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শোকপ্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র শ্লেষ উঠে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নিউ মার্কেটের এই দুর্ঘটনা আসলে বিগত প্রশাসনের চরম গাফিলতি ও উদাসীনতারই পরিণতি।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার ঘটনায় এসির শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আগুনের উৎসের পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এমন ঘিঞ্জি একটি ভবনে কীভাবে একের পর এক হোটেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে শহরে অপরিকল্পিতভাবে পরিকাঠামো গড়ে তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি এবং ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা না মেনেই বহুতলগুলিতে হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসা চালানোর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং কী কারণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা খতিয়ে দেখা। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের ঘটনা আগের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া অব্যবস্থা ও গাফিলতির কারণেই এই পরিণতি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা ও রাজ্যের পরিকাঠামো কোনওরকম কার্যকর নজরদারি ছাড়াই বেড়ে উঠেছে। একাধিক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করেই বিভিন্ন ভবনে হোটেল ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ চলেছে।

অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারের প্রতি মুখ্যমন্ত্রী গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হোটেলের সুইচবোর্ড অথবা এসি থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনায় কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদও করছে। ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আগুনের উৎস ঠিক কোথায় ছিল এবং কী ভাবে তা দ্রুত হোটেলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ল, তা তাঁরা খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, নিয়ম মেনে সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

দমকলকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, হোটেলের দ্বিতীয় তলাতেই আগুনের সূত্রপাত। সেখান থেকে অন্যান্য অংশে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে হোটেলের ভিতর ঘন ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় সেখানে থাকা মানুষজন বিপাকে পড়েন। উদ্ধারকাজ চালাতেও দমকলকর্মীদের একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

অন্য দিকে, নিউ মার্কেটের এই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকের কোনও হদিশ মিলছে না বলে জানা গিয়েছে। তিনি পলাতক বলে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে। ফলে হোটেল মালিককে খুঁজে বের করা এবং তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখাও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


Share