Narendra Modi

কলকাতার হোটেলে আগুনে ন’জনের মৃত্যু, সামনে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ, শোকবার্তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর

এই ঘটনায় বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে শোকবার্তা প্রকাশ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৪৩

কলকাতার নিউ মার্কেট থানা এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার রাত পৌনে দুটো নাগাদ মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুন লাগে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ন'জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে ছ'জন পুরুষ, দু'জন মহিলা এবং এক শিশু রয়েছে। এছাড়া ছ'জন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনায় বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী  এক্স হ্যান্ডেলে শোকবার্তা প্রকাশ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবর শুনে অত্যন্ত মর্মাহত। এই দুর্ঘটনায় যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। আহতরা যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের সহায়তা করছে।’

দমকলের সদর দফতরের পাশেই মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে বুধবার ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। পাঁচতলা ওই ভবনের প্রতিটি তলাতেই তিন-চারটি করে হোটেল চলছিল। অভিযোগ, কোনও ক্ষেত্রেই ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। অপ্রশস্ত জায়গায় তৈরি হোটেলগুলির প্রবেশপথ অত্যন্ত সংকীর্ণ ছিল। তার উপর বেরোনোর জন্য ব্যবহৃত সিঁড়িও লোহার ছিল। আগুনের তাপে সেই সিঁড়ি উত্তপ্ত হয়ে যাওয়ায় আবাসিকদের পক্ষে ওই পথ দিয়ে বেরিয়ে আসা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করা হয়েছে। ডিসি ডিডি পদমর্যাদার এক আধিকারিক এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্ব দেবেন। বুধবার অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল জানান, সিট গঠনের পাশাপাশি দমকলের তরফেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি জানান, ডিজি ফায়ার এবং অন্যান্য সিনিয়র আধিকারিকরা আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছেন। অগ্নিকাণ্ডে কতজনের মৃত্যু হয়েছে, ঘটনায় কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগ রয়েছে কি না-সহ সমস্ত দিক তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, গোয়েন্দা দফতরের হোমিসাইড শাখা ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে।

এই হোটেলে শুধু ভিন্‌রাজ্য নয়, বিদেশ থেকেও এসে মানুষজন থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের মধ্যে আট জন বাংলাদেশের নাগরিক। এ ছাড়াও, হোটেলের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। বাকি মৃতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


Share