Golf Green Case

কীভাবে ফ্ল্যাটের টাকা মেটানো হত? গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার, অভিযুক্তদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ধৃতদের নাম মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, চন্দনকুমার পাসোয়ান এবং অঞ্জলি বাঙ্গিরা।

এই বহুতল থেকেই উদ্ধার হয় জোড়া মৃতদেহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১১:৫৭

গল্ফগ্রিনের জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের নাম মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত, চন্দনকুমার পাসোয়ান এবং অঞ্জলি বাঙ্গিরা। চন্দন বিহারের শেইখপুরা জেলার বাসিন্দা। অনেক দিন ধরেই তিনি কলকাতায় রয়েছেন। অঞ্জলি ঝাড়খন্ডের চক্রধরপুরের বাসিন্দা বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

এই মেহুলি সান‍্যাল পারিবারিক ভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে মা এবং বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। তার পরে ব্রাহ্মণ পরিবারে মেয়ে মেহুলি শাহবাজ নামে এক যুবকের সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে। অঞ্জলি এবং মেহুলি দু’জনেই বান্ধবী। অঞ্জলি এখানে ঝাড়খণ্ডের চক্রধরপুর থেকে পড়াশোনা করতে এসেছেন। সেই সূত্রেই দু’জনের সঙ্গে আলাপ হয়। তাঁরা একসাথেই থাকতেন। কোনও কারণে অঞ্জলি মেহুলিকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলে। মেহুলি এবং অঞ্জলি বিভিন্ন হাউস পার্টিতে যেত। সেখানেই দিলশাদের সঙ্গে আলাপ হয়। দিলশাদ মুস্তাকের সঙ্গে থাকত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।

এই মৃত মহম্মদ দিলশাদ এবং মেহুলি কেউই কোনও কাজ করতেন না। ধৃতরাও কোনও কাজ করতেন না। চারমাস আগে গল্ফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় দিলশাদ। মৃত এবং ধৃতেরা যদি বেকার হয়ে থাকে তাহলে ফ্ল্যাটের ভাড়ার টাকা কীভাবে মেটানো হত তা জানার চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা। ওই ফ্ল্যাটের ঠিক কী কারণে ভাড়া নেওয়া হয়েছে তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। চন্দনকুমার পাসোয়ানের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

ইতিমধ্যেই মহম্মদ দিলশাদ এবং মেহুলি সান‍্যালের দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পেরেছে, মেহুলি সান‍্যাল আগে মারা গিয়েছেন। মেহুলি ৩৬ থেকে ৪৮ ঘন্টা আগে মৃত্যু হয়েছে। মহম্মদ দিলশাদ ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা আগে মারা যায়। মৃতেরা অতিরিক্ত মাদকাসক্ত ছিল। ধৃতেরাও মাদকাসক্ত ছিল। পচা গন্ধের বেরোতে দেখে পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ১০০ ডায়ালে ফোন করে। তারপর পুলিশ গিয়ে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। মেহুলির শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের অনুমান অতিরিক্ত মদ‍্যপানের ফলে কোথাও পড়ে গিয়ে সেই আঘাত লাগতে পারে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেনি পুলিশ।

ঘটনার পরে মেহুলির মা খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। রবিবারই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে। বিচারক ধৃতদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরের একটি বহুতলের চারতলার ফ্ল্যাট থেকে এক যুগলের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণ ও তরুণী ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন এবং সেখানে একত্রবাস করতেন। তরুণীর বাড়ি রামগড় এলাকায়, আর তরুণের বাড়ি তিলজলায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যেই আরও এক যুগল এসে থাকতেন। তাঁদের সঙ্গেও কথা বলে ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত চলছে।


Share