Supreme Court

জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে শুনানি শেষ করে জোড়াফুল প্রতীক এবং তৃণমূলের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১৭

তৃণমূলের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীকের স্বত্ব নিয়ে আগামী চার মাসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের বক্তব্য আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শুনে নিতে হবে কমিশনকে। এর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে শুনানি শেষ করে জোড়াফুল প্রতীক এবং তৃণমূলের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। অর্থাৎ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী চার মাসের মধ্যেই তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের স্বত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে হবে কমিশনকে।

মমতা এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করে রাখার কথা জানায় কমিশন। অর্থাৎ, তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক আপাতত কমিশনের ‘সিন্দুকে’ থাকবে। দল কার, আসল তৃণমূল কোন গোষ্ঠী এবং দলের তহবিলের মালিকানা কার— এই সংক্রান্ত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই প্রতীক নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে।

এর পর ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে শুক্রবার দুই শিবিরের জন্য অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে কমিশন। মমতা শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। তারা উপনির্বাচনে ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ প্রতীকে লড়ছে। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের দলের নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’। নন্দীগ্রামে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী না থাকায় সেখানে কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মমতা শিবির।

প্রতীক ও দলের নাম ‘ফ্রিজ’ করার কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশ্লিষ্ট মামলায় বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যুক্ত করা হয়। মমতার হয়ে আইনজীবী কপিল সিব্বল দ্রুত মামলাটির শুনানির আর্জি জানান। সেই আবেদনের পর গত বৃহস্পতিবার মামলাটির প্রথম শুনানি হয়। সেই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি ‘যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা’ নির্ধারণের পরামর্শ দেয়, যাতে দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করার ন্যায্য সুযোগ পায়। একই সঙ্গে বিষয়টি যাতে অযথা দীর্ঘায়িত না হয়, সে দিকেও নজর রাখার কথা জানায় শীর্ষ আদালত।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানায়, দুই পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতেও পর্যাপ্ত সময় থাকা প্রয়োজন। অর্থাৎ, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের বক্তব্য জানায় নির্বাচন কমিশন। এরপরই তৃণমূলের দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশনকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিল শীর্ষ আদালত।


Share