Calcutta High Court

আইএসএফের খাম প্রতীক নিয়ে শুনানি শেষ, রায় স্থগিত হাই কোর্টে

অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী। শুনানিতে মূল প্রশ্ন হয়ে ওঠে, কোন আইনি বিধান মেনে আইএসএফের ব্যবহৃত খাম প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (ডিটিসি)-কে দেওয়া হল।

আইএসএফের খাম প্রতীক নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাই কোর্টে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:১০

আইএসএফের খাম প্রতীক নিয়ে মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাই কোর্টে। তবে আদালত সোমবার রায় ঘোষণা করেনি বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রায়দান স্থগিত রেখেছেন। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্তে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য আইএসএফের হয়ে সওয়াল করেন। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী। শুনানিতে মূল প্রশ্ন হয়ে ওঠে, কোন আইনি বিধান মেনে আইএসএফের ব্যবহৃত খাম প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (ডিটিসি)-কে দেওয়া হল।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাও নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে বলেন, “হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষের কাজে উদ্বিগ্ন। আদালত চায়, কর্তৃপক্ষ এমন ভাবে কাজ করুন, যাতে পরে তাঁদের প্রশ্নের মুখে পড়তে না-হয়। আর আদালতকেও পরে হস্তক্ষেপ করতে না হয়।” আইএসএফের আগের প্রতীকের বিষয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “আগের প্রতীক পাওয়া আইএসএফ-এর অধিকার হয়তো নয়, কিন্তু এটা তাদের চাওয়া স্বাভাবিক।” এই সূত্রেই কমিশন‌ের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা অন্য একটা দলকে কী করে সেই প্রতীক দিয়ে দিলেন?”

কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী যুক্তি দেন, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া আলাদা। তাঁর বক্তব্য, একটি নির্বাচনের ফল প্রকাশের সঙ্গে সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। ফ্রি সিম্বল বা প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কমিশনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। কোনও রাজনৈতিক দলেরই নির্দিষ্ট কোনও প্রতীকের উপর মালিকানা বা অধিকার নেই। তবে কমিশনের এই যুক্তিতে বিচারপতি রাও সন্তুষ্ট হননি। তিনি জানতে চান, ডিটিসির আবেদনের ভিত্তিতে কমিশন প্রতীকটি বরাদ্দ করেছে—এটা বোঝা গেলেও, আইএসএফের আবেদন এবং তা বিবেচনা করার নথি কোথায়। বিচারপতির প্রশ্ন, ‘‘কোন আইনি ধারা মেনে নির্বাচন কমিশন প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে দিয়ে দিল?’’

কমিশনের বক্তব্যকে ‘সন্তোষজনক নয়’ বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘‘আসলে আপনার কর্তৃপক্ষ আগাম একটা অনিয়ম করেছেন। আপনি এখন তাঁদের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা স্বচ্ছ না হলে এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর জবাবে কমিশনের আইনজীবী বলেন, প্রতীক দেওয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের, কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। পাল্টা আইএসএফের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সেই অধিকার একপেশে ভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে না।

খাম প্রতীক নিয়ে এর আগে আইএসএফ দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছে। কিন্তু আসন্ন উপনির্বাচনে সেই প্রতীক আর পায়নি নওশাদ সিদ্দিকীর দল। পরিবর্তে আইএসএফকে ‘আলমারি’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে কমিশন। খাম প্রতীক ফেরানোর দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ। তার আগে নির্বাচন কমিশনকেও চিঠি দিয়েছিলেন তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার আগে খাম প্রতীকটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আদালতে প্রশ্ন তুলেছে আইএসএফ।

২০২১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে আইএসএফ। ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী দলটি প্রতিষ্ঠা করলেও পরবর্তী সময়ে দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তাঁর ভাই নওশাদ সিদ্দিকী। প্রতিষ্ঠার সময় নির্বাচনের আগে হাতে খুব বেশি সময় না থাকায় দলটি নিজস্ব প্রতীক পায়নি। ফলে বিহারের ‘রাষ্ট্রীয় সেকুলার মজলিস পার্টি’-র খাম প্রতীক নিয়েই বাংলায় নির্বাচনে লড়েছিল আইএসএফ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের স্থায়ী প্রতীকের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদনও করেছিল আইএসএফ। তবে শেষ পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনে খাম প্রতীক নিয়েই লড়াই করে নওশাদের দল। সেই প্রতীকই এবার উপনির্বাচনের আগে অন্য একটি দলকে বরাদ্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আইএসএফের।


Share