Advertising Syndicate

তৃণমূল জমানায় বিজেপির হোর্ডিং দিতে অস্বীকার! রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দেখা না পেয়ে শঙ্কুদেবের কাছে দরবার বিজ্ঞাপন সংস্থার মালিক

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। বিপুল আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ফলে ওই বিজ্ঞাপন সিন্ডিকেট কার্যত ভেঙে গিয়েছে। বলা যায়, অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে তাঁরা। তবে বরফ গলাতে বিজেপি জেতার পরে যেচেই বিভিন্ন জায়গাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে হোর্ডিংয়ে ভরিয়ে দেয় ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা। কিন্তু তাতে তেমন বরফ গলেনি।

রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৪৯

রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরে আরেক দলীয় নেতা শঙ্কুদেব পন্ডার দ্বারস্থ হল সল্টলেকের এক বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধার। বিজেপি সূত্রের খবর, তৃণমূল জমানায় বিজেপির প্রচারের জন‍্য হোর্ডিং দিতে অস্বীকার করেছিল ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা। এমনকী, গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও বিজেপির প্রচারের হোর্ডিং তাঁরা দেয়নি।

সিপিএম জমানা থেকে এই সল্টলেক, কলকাতা-সহ রাজ‍্যের বিভিন্ন জায়গায় এই হোর্ডিং সিন্ডিকেটের রমরমা শুরু হয়। ২০১১ সালে পালাবদলের পরে এই হোর্ডিং সিন্ডিকেটের হোতারা তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সল্টলেকে কান পাতলে শোনা যায়, ওই হোর্ডিং সংস্থা সিপিএমের তৎকালীন সাংসদ অমিতাভ নন্দীর হাত ধরে ফুলেফেঁপে ওঠেন। পরে তৃণমূল জমানায় জার্সি বদল করে সুজিত বসু, সব্যসাচী দত্ত, কৃষ্ণা চক্রবর্তী, দেবাশিস কুমারের মত নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। বিগত দিনে ওই বিজ্ঞাপন সংস্থার বিরুদ্ধে বিধাননগর পুরসভায় অনেক বিতর্ক রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, বকেয়া টাকা তাঁরা মেটাননি। শুধু বিধাননগর নয়, কলকাতা-সহ একাধিক পুরসভার এদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কলকাতা পুরসভায় এদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিজ্ঞাপন সংস্থা সিপিএম এবং গত ১৫ বছরে তৃণমূল জমানায় একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল।

বিজেপি সূত্রের খবর, ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় দলের প্রচারের জন্য হের্ডিং দিতে অস্বীকার করেছিল। শুধু যে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন সংস্থা বিজেপিকে প্রত‍্যাখ‍্যান করেছিল, এমনটা নয়, এই সিন্ডিকেটের বাকিরাও একই কাজ করেছিল। বিষয়টি নিয়ে রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এমন শীর্ষ নেতৃত্বের কথাও তাঁরা কর্নপাত করেনি।

একটি বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধারের হয়ে এক এজেন্ট সল্টলেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সল্টলেকের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে হোর্ডিং এজেন্টের যাতায়াত বাড়ে। যা দেখে বিজেপির কর্মীদের মধ্যেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ওই বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সম্প্রতি ওই হোর্ডিং এজেন্ট সল্টলেকের বিজেপির এক মহিলা নেত্রীকে রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধারের বৈঠক করিয়ে দিতে বলেছিলেন। সেইমতো বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধারকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকের বিজেপির দফতরে রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেতে আসেন। ওই এজেন্টকে দেখতেই শমীকের আপ্তসহায়ক কার্যত চটে যান। বৈঠক হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আপ্তসহায়ক। ফলে আলোচনা ভেস্তে যায়। খালি হাতে ফিরতে হয় ওই বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্ণধারকে।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। বিপুল আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। ফলে ওই বিজ্ঞাপন সিন্ডিকেট কার্যত ভেঙে গিয়েছে। বলা যায়, অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে তাঁরা। তবে বরফ গলাতে বিজেপি জেতার পরে যেচেই বিভিন্ন জায়গাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে হোর্ডিংয়ে ভরিয়ে দেয় ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা। কিন্তু তাতে তেমন বরফ গলেনি।

রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দফতর প্রত্যাখ্যান হওয়ার পরে ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা এখন আরেক দলীয় নেতা শঙ্কুদেব পন্ডার দ্বারস্থ হয়েছে। বিজেপি সঙ্গে বরফ গলাতে শঙ্কুদেবের দরবারে হাজির হয়েছে বলেও ওই বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে। ওই বিজ্ঞাপন সংস্থা বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে পার্ক স্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে শঙ্কুদেবের প্রথম সনাতনী দুর্গাপুজোর বিজ্ঞাপনকে তাঁরা বেছে নিয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের দফতর থেকে প্রত‍্যাখান হওয়ার পরে ওই সংস্থাটি শহরের সর্বত্র শঙ্কুদেবের সনাতনী পুজোর হোর্ডিংয়ে প্রচার করছেন। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে সেতু হিসেবে তাঁরা শঙ্কুদেবের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ওই বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে রাজ‍্যে সিন্ডিকেটরাজ বন্ধ করতে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তোলাবাজি, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে দলীয় নেতা-নেত্রীরা তাঁর রোষানলে পড়েছেন। বেশ কয়েক জনকে সাসপেন্ড করারও নির্দেশ দিয়েছেন শমীক। দল কালিমালিপ্ত হয় এমন কর্মকাণ্ড যে শমীক বরদাস্ত করবেন না আগেই বার্তা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই ওই বিজ্ঞাপন সিন্ডিকেটের হোতার সাথে বৈঠক তিনি নাকোচ করে দিয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহল মনে করছে। কিন্তু রাজ‍্য বিজেপির সভাপতির দফতর থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরে আরার নিজেরদের নেটওয়ার্ককে চাঙ্গা করতে মাঠে নেমে পড়েছে তাঁরা।


Share