Youth Grant Politics

শাসকদলের যুব সাথী প্রকল্পের টাকায় প্রধানমন্ত্রী দর্শন! উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতায় দলে দলে এসেছে তরুণ-তরুণীরা

তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আমার কাছে কলকাতায় যাওয়ার মতো টাকা ছিল না। এরপর হঠাৎ দেখি রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাই আর কালবিলম্ব না করে ওই টাকা তুলে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৫:৪৭

মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্প 'যুব সাথী'। প্রায় এক মাস আগে বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য রাজ্য সরকার এই প্রকল্প চালু করেছে। বিগত সোমবার থেকেই এই প্রকল্পের ১৫০০ টাকা প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া শুরু হয়েছে। এ বার সেই টাকা নিয়েই উত্তরবঙ্গ থেকে তরুণ-তরুণীরা প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে এসেছে।

শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা রয়েছে। আর সেই সভায় যোগ দিতে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে কলকাতায় জনসভার উদ্দেশ্যে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা রওনা দেন। রাজগঞ্জের বেলাকোবা স্টেশনে দাঁড়িয়ে টাকিমারির তরুণ গোপাল দাস নির্দিধায় স্বীকার করলেন, তিনি দিদির টাকায় মোদির সভায় যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল পর্যন্ত আমার কাছে কলকাতায় যাওয়ার মতো টাকা ছিল না। এরপর হঠাৎ দেখি রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তাই আর কালবিলম্ব না করে ওই টাকা তুলে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তিনি আরোও বলেন ‘বহুদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেখার দারুণ ইচ্ছা ছিল। আশা করি, এবার সেই ইচ্ছা সফল হবে। আমি জানি, দিদি শুধু ভাতা দেবেন। চাকরি দেবেন না। চাকরি দেবেন সেই নরেন্দ্র মোদি। তাই দিদির ভাতার টাকা নিয়ে আমি নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে যাচ্ছি। তবে হ্যাঁ, মোদিকে দেখতে যাওয়ার ইচ্ছে পূরণ হচ্ছে দিদির টাকাতেই।’

শনিবার বেলাকোবা রেলস্টেশনে বিজেপি নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপি পতাকা নিয়ে ট্রেনে উঠেন তাঁরা। মোদীর স্লোগানে মুখরিত হয় ট্রেন। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই বিজেপি কর্মী মোদীকে দেখার নেপথ্যে মুখ্যমন্ত্রীর অবদানের কথা উঠে আসে। তবে, সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হতেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।

শাসকদলের রাজগঞ্জ ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ব্লক আইএনটিটিইউসি’র সভাপতি শেখ ওমর ফারুকের বক্তব্য, এটাই আমাদের দিদি। কোনও রাজনৈতিক রং না দেখে সবাইকে ভাতার টাকা দিয়েছেন। সঙ্গে ফারুক আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে মোদি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দেশে বছরে ২ কোটি বেকারকে চাকরি দেবেন, বাস্তবে মোদি কী দিয়েছেন সেটা সবাই জানে।’ পালটা বিজেপির রাজগঞ্জ দক্ষিণ মণ্ডল সভাপতি সুশান্ত রায় বলেন, ‘ভাতা দিয়ে তো আর সংসার চলবে না, তরুণ-তরুণীরা বুঝতে পেরেছে সেই কথা। চাকরি দিদি দেবে না, সে কথাও বুঝে গিয়েছে তরুণ প্রজন্ম।’


Share