Election Commission of India

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নজিরবিহীন চাপ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অপসারণে সরব ‘ইন্ডিয়া’ জোট

বিরোধী শিবিরের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ দায়িত্ব পালনে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ এবং ‘নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি করা’।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ ০৬:০০

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে দিল্লি-সহ জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরাসরি অপসারণ বা ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আনা ওই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর জমা পড়েছে। ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বিরুদ্ধে মোট সাতটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ দায়িত্ব পালনে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ’ এবং ‘নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি করা’। এছাড়াও এসআইআর-এর দোহাই দিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তাঁর অপসারণ জরুরি।

তৃণমূল কংগ্রেসের এক বর্ষীয়ান নেতার দাবি, লোকসভা থেকে ১৩০ জন এবং রাজ্যসভা থেকে ৬৩ জন সাংসদ এই প্রস্তাবে সই করেছেন। আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতির মতোই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অতীতে এমন উদ্যোগ সই সংগ্রহের স্তর পর্যন্ত পৌঁছয়নি বলেই বিরোধীরা প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিচ্ছে।

এই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং জটিল। প্রথমে লোকসভার স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, তা নির্ধারণ করবেন। গ্রহণ করা হলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হবে। সেই কমিটির রিপোর্টে অনুমোদন মিললে তবেই সংসদে আলোচনা ও ভোটাভুটি হতে পারে। যদিও বর্তমান সংখ্যার অঙ্কে বিরোধীদের সামনে বড় বাধা রয়েছে, তবু এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


Share