Republic Day

নিজ ভাষায় ধারাভাষ্য, বিশ্বনেতাদের সামনে ভারতের শক্তি প্রদর্শন, ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘নতুন রূপে’ মোদী

এই সমস্ত অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রদর্শন করেন। কর্তব্যপথের রাস্তা ধরে এগোয় প্রতিটি রাজ্যের ট্যাবলো। প্রতিটি ট্যাবলোতেই বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলিদানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টুকরো ছবিও তুলে ধরা হয়। এই পুরো অনুষ্ঠান ধরেই প্রধামন্ত্রীকে দেখা যায় ভিন্‌দেশি অতিথিদের টানা ধারাভাষ্য দিতে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩২

৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কর্তব্যপথে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল ভিনদেশি অতিথি। সেখানেই এক নতুনরূপে দেখা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। গোটা অনুষ্ঠানের বেশিরভাগ জুড়েই নিজ ভাষায় ধারাভাষ্য দিলেন তিনি। পাশাপাশি ভাষান্তরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সমস্ত কথা শুনলেন ইউরোপীয় নেতারাও। এদিন প্রজাতন্ত্র দিবসের উৎসবে তুলে ধরা হল ভারতের বৈচিত্র, সামরিক শক্তি ও উন্নয়নযাত্রার সামগ্রিক চিত্রটি।

সোমবার সকাল থেকেই পুরো দিল্লি শহর জুড়ে নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। সকালেই নীল-সাদা কুর্তা-পাজামা পরে সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। ফিকে নীল জওহর কোটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জারদৌসি কারুকাজের উজ্জ্বল লাল রঙের পাগড়ি ছিল তাঁর মাথায়। তবে পাগড়িতে ছিল আরও বহু রং। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী যানে করে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিয়ো লুই সান্তোস ডি কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। জাতীয় যুদ্ধস্মারকে শহিদ সৈনিকদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন-সমেত নীরবতা পালন করা হয়। এরপরে মঞ্চে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী-সহ অন্যান্য অতিথিবর্গরা। জাতীয় পতাকা উন্মোচনের পর জাতীয় সঙ্গীতে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। সঙ্গে ২১ বার তোপধ্বনি।

সকাল ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ শুরু হয় মূল কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠান। বিজয় চক থেকে শুরু হয়ে ঐতিহাসিক লালকেল্লায় গিয়ে কুচকাওয়াজ শেষ হওয়ার কথা। দেশবাসীর দেখার জন্য অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ট্যাবলো রাখা হয়েছে এই অনুষ্ঠানে। ট্যাবলোর থিম ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর’। শুরুতেই সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে ভারতের সামরিক বাহিনী। কুচকাওয়াজে অংশ নেয় টি-৯০ ভীষ্ম এবং মেন ব্যাটল ট্যাঙ্ক অর্জুন। প্রদর্শনের জন্য ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয় ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং সূর্যাস্ত্র রকেট লঞ্চার সিস্টেম। ক্যাপ্টেন অহন কুমারের নেতৃত্বে কুচকাওয়াজ করে ভারতীয় সেনার ৬১তম অশ্বারোহী বাহিনী। বিশেষ প্রদর্শনী উপস্থাপন করে ভারতীয় বায়ুসেনাও। গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করা যুদ্ধবিমানগুলিকে দিল্লির আকাশে ওড়ানো হয়। ‘সিঁদুর’ অভিযানে ঠিক যে ভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে ব্যবহার করা হয়েছিল, দেশের তেরঙা পতাকা নিয়ে সেই একই রণসজ্জায় রাফাল, মিগ-২৯, সুখোই-৩০, জাগুয়ার-সহ মোট সাতটি যুদ্ধবিমান দাপিয়ে বেড়ায় রাজধানীর আকাশে।

এই সমস্ত অনুষ্ঠানের পর বিভিন্ন শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রদর্শন করেন। কর্তব্যপথের রাস্তা ধরে এগোয় প্রতিটি রাজ্যের ট্যাবলো। প্রতিটি ট্যাবলোতেই বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলিদানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টুকরো ছবিও তুলে ধরা হয়। এই পুরো অনুষ্ঠান ধরেই প্রধামন্ত্রীকে দেখা যায় ভিন্‌দেশি অতিথিদের টানা ধারাভাষ্য দিতে।

উল্লেখ্য, রবিবার তিন দিনের নয়াদিল্লি সফরে এসেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই নেতা ডি কোস্টা এবং উরসুলা। তাঁরা ২৭ জানুয়ারি ভারত-ইইউ সম্মেলনেও যোগ দেবেন। চলতি সফরে বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দুই পক্ষের কৌশলগত অংশীদারি বাড়াতে নতুন নতুন ক্ষেত্রের সন্ধান করা হবে।


Share