Maoist Seek Recognition

‘আমরা অস্ত্র ছাড়ব, বৈধ দল হিসেবে স্বীকৃতি চাই’ রেবন্তের কাছে বড় প্রস্তাব আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা দেবজির

গত মাসে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন দেবজি। এরপর সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে বৈধ রাজনৈতিক পথে ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। দেবজি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (রেবন্ত রেড্ডি)-কে আমি অনুরোধ করেছিলাম (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে)। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তেলেঙ্গানা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪১

আত্মসমর্পণের পর এ বার মাওবাদী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা দিলেন শীর্ষ নেতা দেবজি ওরফে তিপ্পিরি তিরুপতি। নিষিদ্ধ সশস্ত্র পথ ছেড়ে সমাজ ও রাজনীতির মূল ধারায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি মাওবাদীদ জঙ্গিদের বৈধ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব সামনে আনলেন।

গত মাসে তেলেঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন দেবজি। এরপর সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মাওবাদীদের অস্ত্র ছেড়ে বৈধ রাজনৈতিক পথে ফেরার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। দেবজি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (রেবন্ত রেড্ডি)-কে আমি অনুরোধ করেছিলাম (নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে)। তিনি আমার কথা শুনেছেন এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছেন।

দেবজির বক্তব্য, তিনি ইতিমধ্যেই রেবন্ত রেড্ডি-র কাছে এই প্রস্তাব রেখেছেন। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে শুনেছেন এবং এ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। দেবজির কথায়, “আমরাল (মাওবাদীরা) অস্ত্র ছেড়ে দেব। আমাদের সংগঠনটিকেও একটি বৈধ দল হিসাবে দেখা হোক।”

কেন্দ্র ইতিমধ্যেই আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশে মাওবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসার মধ্যে দেবজির এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত বছর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হন নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজ নামেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে দেবজির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। আত্মসমর্পণের আগে সংগঠনের অন্দরে তিনিই কার্যত প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

৬২ বছর বয়সি দেবজির মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। মাওবাদীদের সশস্ত্র শাখা সশস্ত্র বাহিনী পিপল্‌স লিবারেশন গেরিয়া আর্মি গঠনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পরে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে উঠে আসেন। তাঁর আত্মসমর্পণের পর মাওবাদী সংগঠন আরও দুর্বল হয়েছে বলেই নিরাপত্তা মহলের ধারণা। 


Share