Election Commission

দেওয়াল দখলেই অভিযোগের পাহাড়, ভোট আচরণবিধি লঙ্ঘনে চাপে নির্বাচন কমিশন

এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্লাইং স্কোয়াড (এফএসটি) এবং স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (এসএসটি)-কে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ভবনের দেওয়াল রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হলেও অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূলের দিকে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৫:১৩

ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলির বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। অভিযোগের সিংহভাগই দেওয়াল দখলকে ঘিরে। পাশাপাশি শিলিগুড়ি-সহ কয়েকটি এলাকায় পুরসভার প্রতিনিধিদের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগও জমা পড়েছে।

এই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্লাইং স্কোয়াড (এফএসটি) এবং স্ট্যাটিক সার্ভেল্যান্স টিম (এসএসটি)-কে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ভবনের দেওয়াল রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ হলেও অভিযোগের তির উঠেছে তৃণমূলের দিকে। ইতিমধ্যেই পশ্চিম বর্ধমান জেলার পশ্চিম দুর্গাপুর বিধানসভা কেন্দ্রের করঙ্গপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়াল মুছতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের এসএসটির দুই সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আবার সপ্তগ্রামে দেওয়াল দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএম-এর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ জানানোর জন্য চালু টোল-ফ্রি নম্বর ১৯৫০-তে গত আট দিনে জমা পড়েছে মোট ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৮৬টি অভিযোগ। এর মধ্যে প্রায় সবই দেওয়াল দখল সংক্রান্ত। মুর্শিদাবাদ, হুগলি এবং পুর্ব বর্ধমান থেকেও এসেছে বহু অভিযোগ, যা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের আওতায় পড়ছে। এর মধ্যে তিন লক্ষ ১১ হাজার ৮২৯টি অভিযোগ সরকারি হাসপাতাল ও কেন্দ্রীয়-রাজ্য সরকারি ভবনের দেওয়াল দখল নিয়ে। বেসরকারি বাড়ির দেওয়াল দখল নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ১৯ হাজার ৯০১। কমিশনের একাংশের মতে, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকেই অভিযোগ জানাতে ভয় পান, ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে পশ্চিম বর্ধমান থেকে মোট ৩৫ হাজার ৭৯৮টি। তার পরেই রয়েছে কোচবিহার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। তুলনায় অভিযোগ কম এসেছে কালিম্পং, ঝাড়গ্রাম ও জলপাইগুড়ি থেকে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে এফএসটি ও এসএসটি-কে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আট থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে জানাতে হবে।

এদিকে কমিশনের নির্দেশে সিইও দপ্তরে গঠন করা হচ্ছে একটি বিশেষ অভিযোগ শোনার সেল। এর দায়িত্বে থাকবেন এক জন আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁকে সহায়তা করবেন তিন জন সরকারি আধিকারিক এবং ছয় জন মাইক্রো অবজার্ভার। চালু করা হচ্ছে নতুন ফোন নম্বর ও পৃথক ই-মেল ব্যবস্থাও।

এসএসটি ও এফএসটি সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নজরদারির জন্য তাদের গাড়িতে বসানো হচ্ছে ৩৬০ ডিগ্রি মুভিং ওয়েব ক্যামেরা যার মাধ্যমে কমিশন দফতরে বসেই তল্লাশির প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করা যাবে।


Share