Assembly Election

ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকে সরিয়ে দিল কমিশন, মোট ৭৩ জন আধিকারিকের বদলে সিলমোহর দিল নির্বাচন সদন

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও রিটার্নিং অফিসারকেও অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে নতুন অফিসার হলেন সুরজিৎ রায়৷ তিনি ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার। এর আগে রাজ্যে এক ঝাঁক জেলাশাসকদের সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১১:৫১

বিধানসভা নির্বাচন ঘোষনার পর থেকেই একের পর এক আমলা বা পুলিশ কর্তাদের বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এ বার ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে অপসারণ করল নির্বাচন কমিশন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই মহকুমাশাসক রয়েছেন। ভোট পরিচালনায় রিটার্নিং অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও রিটার্নিং অফিসারকেও অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে নতুন রিটার্নিং অফিসার হলেন সুরজিৎ রায়। তিনি ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার।

রাজ্যে ২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা ক্ষেত্রে এক জন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন। অতএব, রাজ্যে আরও-র সংখ্যা ২৯৪। তাঁদের মধ্যে ৭৩ জনকে অপসারণ করা হল, যাঁদের বেশির ভাগই মহকুমাশাসক। সোমবারই নির্বাচন কমিশন এই নির্দেশিকা জারি করেছে। মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে কমিশন নব নিযুক্ত রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশিকা অনুসারে, কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, মুর্শিদাবাদের লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, বারাসত, ক্যানিং, বারুইপুর, আলিপুর, হাওড়া সদর, বুগলি সদর, তমলুক, কাঁথি, হলদিয়া, এগরা, ঘাটাল, দুর্গাপুর, আসানসোলে নতুন মহকুমাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তুফানগঞ্জের মহকুমাশাসক হয়েছেন শান্তনু কর্মকার। জলপাইগুড়িতে মহকুমাশাসক হয়েছেন নির্মল ঘরামি। ব্যারাকপুররে মহকুমাশাসক হয়েছেন যাদব সূর্যভান আচ্ছেলাল। হাওড়া সদরের মহকুমাশাসক হয়েছেন বিবেক পঙ্কজ। সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। সেখানে ১৩ জন আরও-কে বদল করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দশ জন আরও-কে রদবদল করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরেও সংখ্যাটা একই। কলকাতায় ভবানীপুর এবং রাসবিহারী কেন্দ্রের আরও-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার নির্দেশিকা জারি করে কমিশন রাজ্যের ১১ জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করার কথা জানায়। তালিকায় রয়েছে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দুই ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার। প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন। যাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের নতুন পদে নিয়োগ করা হয়।

ভোটের ঘোষনার পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর পর একে একে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে সরানো হয়। একাধিক জেলাশাসক, ডিআইজিও অপসারিত হন। নবান্ন প্রতি ক্ষেত্রেই অপসারিত আধিকারিকদের নতুন পদে বহাল করেছে। সেই সঙ্গে কমিশনের এই ধরনের আচরণকে শাসকদল নিন্দা করেছে।

উল্লেখ্য, জন প্রতিনিধিত্ব আইনের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়। রিটার্নিং অফিসার বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেন। তা স্ক্রুটিনি করেন। তিনিই যাচাই করে ভুল-ত্রুটি দেখে বাতিলও করতে পারেন। মনোনয়ন প্রত‍্যহারের পরে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোর দায়িত্ব রয়েছে তাঁর ওপরেই। ভোট গণনার কার্যক্রম তিনিই পরিচালনা করেন। গণনা শেষে বিজয়ী প্রার্থীকে ঘোষণা তিনিই করেন। জন প্রতিনিধিত্ব আইনের ২২ নম্বর ধারায় তাঁকে সাহায্য করেন এমআরও।

অন‍্যদিকে, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে নির্দিষ্ট রিটার্নিং অফিসার শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাতে পারবেন না বা তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষপাতিত্ব করতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আবার যদি কোনও রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ থাকে, তাহলেও তাঁকে সরিয়ে দিতে পরে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে নিয়োগ করার পরে কেন আবার বদল করা হল, তা স্পষ্ট নয়। আদর্শ আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও পদের আধিকারিককে বদল করে দিতে পারে কমিশন।


Share