Supreme Court

হিন্দু, বৌদ্ধ থেকে অন‍্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে তপশিলি অধিকার নয়, স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত

বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের আগের রায় বহাল রেখে জানায়, সংবিধানের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী কেবল হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই তপশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেউ স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম গ্রহণ করে সেই ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করলে তাঁর তপশিলি জাতির মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোপ পাবে।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০২:৩০

ধর্মান্তরিত হলে তপশিলি জাতির সাংবিধানিক সুবিধা বজায় থাকবে কি না, সেই প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান স্পষ্ট করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্মের বাইরে অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর তপশিলি জাতির আইনি মর্যাদা দাবি করতে পারবেন না। অতয়েব ইসলাম বা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর তপশিলি জাতির জন্য নির্ধারিত সাংবিধানিক সংরক্ষণ ও বিশেষ সুরক্ষা আর প্রযোজ্য হবে না।

বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের আগের রায় বহাল রেখে জানায়, সংবিধানের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী কেবল হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই তপশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, কেউ স্বেচ্ছায় অন্য ধর্ম গ্রহণ করে সেই ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান পালন করলে তাঁর তপশিলি জাতির মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোপ পাবে।

এই মামলার সূত্রপাত চিন্তাড আনন্দ নামে অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দার এক বাসিন্দাকে ঘিরে। তিনি জাতিগত হেনস্তার অভিযোগ তুলে ‘এসসি বা এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন’-এর আওতায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টধর্মের যাজক হিসেবে কাজ করছেন এবং নিয়মিত প্রার্থনাসভা পরিচালনা করেন।

এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্ট জানিয়েছিল, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের ফলে আবেদনকারী আর তপশিলি জাতিভুক্ত নন, ফলে তাঁর ক্ষেত্রে এসসি বা এসটি আইনের সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়। সেই অবস্থানেই সায় দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, শুধুমাত্র পুরনো জাতিগত শংসাপত্র থাকলেই সুবিধা মিলবে না, আদি ধর্মে প্রত্যাবর্তন এবং সমাজের স্বীকৃতি ছাড়া তপশিলি মর্যাদা পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়।

এই রায়ের মাধ্যমে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের সংরক্ষণ-অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি বিতর্কে নতুন দিশা মিলল। আদালত স্পষ্ট করেছে, তপশিলি জাতির সাংবিধানিক সুরক্ষা নির্ধারণে ধর্মীয় পরিচয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


Share