Fake Doctor

বিহারের থেকে জাল সার্টিফিকেট নিয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা! দুই চিকিৎসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল স্বাস্থ্য দফতর, এফআইআরের দায়েরের নির্দেশ

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, দু’জনই চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এঁদের মধ্যে হাফিজুর হালদার ডায়মন্ড হারবারের কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ছিল। তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৭

জাল সার্টিফিকেট ব‍্যবহার করে সরকারি হাসপাতালে করছিল চিকিৎসা। বিহার থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা করছিল তাঁরা। অভিযুক্ত দু’জন চিকিৎসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল স্বাস্থ্য দফতর। তাঁদের নাম— শেখ ইউনুস হাসান ও উত্তম মাইতি। বিধাননগর দক্ষিণ থানাকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ ভুয়ো চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়। তাঁদের নাম হল—  শেখ ইউনুস হাসান (পাথরপ্রতিমা), হাফিজুর হালদার (মন্দিরবাজার), উত্তম মাইতি (কুলতলি), জুলফিকার মন্ডল (গাইঘাটা) এবং শেখ সইদুল হক (বর্ধমানের দেওয়ানদীঘি)। রাজ‍্য মেডিকেল কাউন্সিল সূত্রের খবর, এদের মধ্যে কেউ সিপিএম জমানার ২০০৭ এবং ২০০৮ সালে জাল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে। আবার কেউ ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০২২ সালে এমন সার্টিফিকেট দিয়ে রেজিস্ট্রেশন আদায় করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, এত বছর ধরে তাঁরা রোগীদের চিকিৎসা করেছেন। তাঁরা ডাক্তার না হয়ে চিকিৎসা চালিয়ে গিয়েছেন। সমস্ত নথি তাঁদের জাল ছিল। এমনকী, এই ভুয়ো চিকিৎসকেরা এলাকায় চেম্বার খুলেছিলেন। কেউ আবার নার্সিংহোমে কাজ করেছেন। কেউ আবার এককাঠি ওপরে গিয়ে নার্সিংহোমও এলাকায় খুলে ফেলেছিলেন।

এই সমস্ত যাবতীয় অভিযোগ পাওয়ার পরে রাজ‍্য মেডিকেল কাউন্সিল বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে চিঠি দিয়ে অভিযুক্তদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। সোমবার সেই সংক্রান্ত জবাব এসেছে। জবাবে এই পাঁচ চিকিৎসকের সার্টিফিকেট জাল বলেই তারা জানিয়েছে। তার পরেই এই পাঁচ ভুয়ো ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে বলে জানা গিয়েছে। তারা সবাই ভুয়ো এমবিবিএসের সার্টিফিকেট জমা দিয়ে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে ডাক্তারির রেজিস্ট্রেশন পেয়েছিল।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, দু’জনই চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। এঁদের মধ্যে হাফিজুর হালদার ডায়মন্ড হারবারের কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত ছিল। তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এই চক্রের শিকড় আরও বড় বলেই মনে করছেন কর্তা। সূত্রের খবর, ২০০৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত এই ১৭ বছরের রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলে নথিভুক্ত ভিন রাজ্য থেকে পাশ করে আসা চিকিৎসকের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে নথিভুক্ত ভিন রাজ্য থেকে আসা চিকিৎসকদের তথ্য একত্রিত করার জন‍্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ রাজ‍্য থেকে পাশ করা ডাক্তারদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছে।


Share