Body Recovery

গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে

পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক যুবকের ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল ও হুমকির কারণে মানসিক চাপে ছিল নাবালিকা। শুক্রবার বাড়ি থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায়

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০০

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় ১৩ বছরের এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের দাবি, স্থানীয় এক যুবকের অত্যাচার ও ব্ল্যাকমেলের কারণে ওই নাবালিকা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবক তাকে ধর্ষণও করেছেন। পাশাপাশি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো দেখিয়ে ভয় দেখানো হত বলে দাবি পরিবারের।

শুক্রবার বাড়ি থেকেই পরিবারের সদস্যরা ওই নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন। সে স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে ৩২ বছর বয়সি স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে ওই নাবালিকার যোগাযোগ ছিল। কয়েক মাস আগে ফোন করে ওই যুবক তাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠান। অভিযোগ, সেখানে যুবকের মা নাবালিকাকে একটি ঘরে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর ঘরের ভিতর তার উপর যৌন নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

এরপর থেকেই ওই নাবালিকাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখানো হত বলে দাবি পরিবারের। অভিযোগ, তার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়ো তুলে রেখেছিলেন ওই যুবক। সেই ছবি-ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করা হত। কখনও স্কুলে যাওয়ার কথা বলে, আবার কখনও অন্য অজুহাতে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হত বলে অভিযোগ। যেতে রাজি না হলে ছবি-ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত বলে দাবি নাবালিকার মামির।

পরিবারের দাবি, মেয়ের সঙ্গে ওই যুবকের যোগাযোগের কথা প্রথমে জানতেন না বাবা-মা। বিষয়টি জানার পর মেয়েকে সতর্ক করেন তাঁরা। ওই যুবককেও সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলা হয়েছিল বলে দাবি নাবালিকার বাবার। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ।

এমনকি নাবালিকাকে অ্যাসিড হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। আরও দাবি, ওই যুবকের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে নাবালিকার হাতে শাঁখা পরানো হয় এবং সিঁদুরও পরানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, ওই ‘বিয়ে’তে নাবালিকার সম্মতি ছিল না। পরে তার ঠাকুমা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এরপরই শুক্রবার বাড়িতে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো ও মানসিক চাপের কারণেই সে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

তবে নাবালিকার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের তরফে গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে পরিবার। পুলিশ সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে।


Share