Suvendu Adhikari

দীর্ঘ জট কাটিয়ে বিমানবন্দরের কাজে গতি, পুরুলিয়া-বালুরঘাটে ‘ডবল ইঞ্জিন’ উদ্যোগ, আজই নবান্নে মউ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১৩

পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিমানবন্দর তৈরির লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সোমবার নবান্ন সভাঘরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের মধ্যে এ নিয়ে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের।

রাজ্যে মোট চারটি বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনা চলছে। তার মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে পুরুলিয়ার ছররা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট বিমানবন্দরকে। ইতিমধ্যেই বালুরঘাট বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত এই বিমানবন্দরকে নতুন করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি হয়েছিল এখানকার রানওয়ে। পরবর্তীতে বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবাও চালু হয়েছিল। আশির দশকে ‘বায়ুদূত’-এর বিমানও বালুরঘাট থেকে চলাচল করত। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে সেখানে। ফলে এটিআর-৭২-এর মতো বিমান ওঠানামা করতে পারবে। রয়েছে টার্মিনাল বিল্ডিংও।

গত সরকারের আমলে বিমানবন্দরটি রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০১৮ সালে প্রায় ১২ কোটি টাকা খরচ করে পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমান পরিষেবা চালু হয়নি। এবার রাজ্যের হাতে থাকা প্রায় ১৩২ একর জমি কেন্দ্রের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সম্প্রতি বিমানবন্দর পরিদর্শনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি চান বালুরঘাট থেকে বড় বিমান ওঠানামা করুক।

অন্য দিকে, পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ছররায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি হয়েছিল দু’টি রানওয়ে। সেখানে বিমানবাহিনীর ৪৪৪তম বম্বার্ডমেন্ট গ্রুপের ঘাঁটি ছিল। বি-২৪ যুদ্ধবিমানও ওঠানামা করত এই বিমানঘাঁটি থেকে। বাম আমল থেকে তৃণমূল সরকারের সময় পর্যন্ত সেখানে পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর তৈরির একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। প্রশাসনের একাংশের মতে, সমীক্ষা ও পরিকল্পনা থাকলেও কেন্দ্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবেই এতদিন প্রকল্পটি আটকে ছিল।

এ বার রাজ্য ও কেন্দ্রে একই দলের সরকার থাকায় সেই জট কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য-কেন্দ্রের সমন্বয়ের মাধ্যমে ছররা ও বালুরঘাট-সহ প্রস্তাবিত বিমানবন্দরগুলির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই সোমবারের মউকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


Share