Suicide Due to Fear of Digital Arrest

ডিজিটাল অ্যারেস্টের আতঙ্ক! সাইবার নোটিস পাওয়ার পর আত্মঘাতী উত্তর ২৪ পরগনার যুবক

পরিবারের অভিযোগ, ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর আতঙ্কে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেন মধু ব্যবসায়ী।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:২৭

ভিন রাজ্য থেকে আসা একটি আইনি নোটিস—আর তার জেরেই ভয়াবহ পরিণতি। নিজের নামে তোলা সিম কার্ড ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার পর আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের রাজবেড়িয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতের নাম মনিরুল গোলদার (৩৭)। পরিবারের অভিযোগ, ডিজিটাল অ্যারেস্টের আতঙ্কে মানসিক চাপে ভেঙে পড়েই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। এই ঘটনায় অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে মনিরুলের বাড়িতে মহারাষ্ট্রের পুনে সিটি সাইবার থানার তরফে একটি আইনি নোটিস আসে। পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠানো ওই নোটিসে উল্লেখ ছিল, মনিরুলের নামে নেওয়া একটি সিম কার্ড ব্যবহার করে অপরাধমূলক আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। নোটিসে আরও জানানো হয়, সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হাজিরা না দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিসের শেষে পুনে সাইবার থানার ইনস্পেক্টর স্বপ্নালি সিন্ধে-র সিল ও স্বাক্ষর ছিল।

সাইবার পুলিশের দাবি, একটি আর্থিক নয়ছয় সংক্রান্ত মামলার তদন্তে মনিরুলের মোবাইল নম্বরের যোগ পাওয়া যায়। সেই কারণেই তাঁকে সন্দেহভাজন তালিকায় রেখে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। মৃত মনিরুল পেশায় ছিলেন মধু ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে ভিন জেলায় যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল তাঁর। কিন্তু নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই তাঁর আচরণে বদল লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, মানসিক আতঙ্কে মনিরুল খাওয়াদাওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে নোটিস নিয়ে অশোকনগর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়। পুলিশ আশ্বাস দিলেও মনিরুলের ভয় কাটেনি।

মৃতের মামা আব্দুল হাকিম মণ্ডল বলেন,
‘ও বারবার বলত, আমি তো একটা সিম কার্ডই ব্যবহার করি। পুলিশ আর আইনজীবীরা ভয় না করতে বলেছিলেন। কিন্তু ও নিজের মনকে বোঝাতে পারেনি।’ বুধবার মধু সংগ্রহের কাজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মনিরুল। সঙ্গে ছিল জামাকাপড়ের একটি ব্যাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছেই একটি খেলার মাঠ সংলগ্ন চায়ের দোকানের পিছনে আম গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। এ দিন মৃতের স্ত্রী খাদিজা বিবি অশোকনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, নোটিসটির উৎস, এর আইনি বৈধতা এবং এর সঙ্গে কোনও প্রতারণা-চক্র যুক্ত রয়েছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share