ED Raid

জাল নথি তৈরি করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ, মার্লিন গ্রুপের কর্ণধার সুশীল মোহতার বাড়ি-সহ সাতটি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি

বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের সুশীল মোহতা এবং তাঁর ছেলে সাকেত মোহতার বাড়িতে তল্লাশি চলছে। সল্টলেকের একটি বাড়িতেও চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ঘিরে রেখেছেন।

মার্লিন গ্রুপের মালিক সুশীল মোহতা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২২

জমির জাল নথি তৈরি করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে কলকাতার সাতটি ঠিকানায় ইডির তল্লাশি অভিযান চলছে। জানা গিয়েছে, কলকাতার মার্লিন গ্রুপের কর্ণধার সুশীল মোহতা এবং তাঁর ছেলে সাকেত মোহতার বাড়িতে ইডির আধিকারিকের তল্লাশি চালাচ্ছেন।

ইডি সূত্রের খবর, কলকাতায় একটি প্রজেক্টের জন্য মার্লিন গ্রুপ জাল নথি তৈরি করে। তা দেখিয়ে বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। সেই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে ইডির তদন্তকারীরা মনে করছেন। এমনকী, দুর্নীতির টাকা প্রভাবশালীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছে বলে ইডির একটি সূত্র দাবি করেছে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের সুশীল মোহতা এবং তাঁর ছেলে সাকেত মোহতার বাড়িতে তল্লাশি চলছে। সল্টলেকের একটি বাড়িতেও চলছে ইডির তল্লাশি অভিযান। সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ঘিরে রেখেছেন। 

কিছু দিন আগে জমি দখল করে আর্থিক তছরুপের মামলায় কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তথা রাজবিহারীর তৃণমূল কর্মী দেবাশিস কুমারকে দু’বার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিয়েছেন। গত সপ্তাহেই বালিগঞ্জের ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক জয় কামদারের অফিস থেকে এক কোটি ২০ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করে। পাশাপাশি ওই দিন কসবার তৃণমূল কর্মী সোনাপাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বালিগঞ্জের বাড়িতেও ইডি অভিযান চালায়। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। ইডি সূত্রের খবর, সেই মামলাতেই এই তল্লাশি অভিযান চলেছে।

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সুশীল মোহতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এই মার্লিন গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছর নিউ টাউনের একটি বহুতল ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। সেখানে রয়েছে ২৩৩টি ফ্ল্যাট, ২৬৯টি গাড়ি পার্কিং স্পেস। একটি বাণিজ্যিক প্লাজাও ছিল। মার্লিন গ্রুপের সুশীল মোহতা ও অন্যদের উদ্যোগে তৈরি এই প্রকল্পে অনুমোদন জোগাড় করা হয়েছিল প্রতারণা, দুর্নীতি এবং প্রভাব খাটিয়ে—এই অভিযোগেই কড়া নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত প্রোমোটার গোষ্ঠীর আধিকারিকদের এবং এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এনকেডিএ-র যে সমস্ত ইঞ্জিনিয়ার ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে যোগসাজশের প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় এবং ফৌজদারি মামলা চালানোরও নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট।


Share