Accident

দু’দিন পর তিস্তা থেকে উদ্ধার দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়ি, ভিতরে একই পরিবারের চার নিথর দেহ, শোকে স্তব্ধ সিকিম

সেই সময় শিলিগুড়ির দিকে আসছিল সিকিমের ওই পরিবারের গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধসের সঙ্গে নেমে আসা বিশাল পাথরের আঘাতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে নীচে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়।

উদ্ধার গাড়ি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিকিম
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৪:৪১

উত্তরবঙ্গে টানা বৃষ্টির জেরে ফের দুর্ঘটনার সাক্ষী হল পাহাড়। শুক্রবার ধসের কবলে পড়ে তিস্তা নদীতে তলিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রায় দু’দিনের তল্লাশি অভিযানের পর রবিবার দুপুরে নদী থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়ির ভিতর থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুও। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের নাম স্মারিকা নিওপানে (২৮), শৈব্যা নিওপানে (২৭), টিকা দাহাল (২৭) এবং পাঁচ বছরের দিত্যা ছেত্রী। তাঁরা সকলেই সিকিমের গ্যাংটকের কাবি লাংচক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের সেবক ও কালীঝোড়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ধস নামে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় মাটি আলগা হয়ে থাকায় আচমকাই পাহাড়ের উপর থেকে বিশাল পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে রাস্তায়। সেই সময় শিলিগুড়ির দিকে আসছিল সিকিমের ওই পরিবারের গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধসের সঙ্গে নেমে আসা বিশাল পাথরের আঘাতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে নীচে তিস্তা নদীতে পড়ে যায়।

খরস্রোতা তিস্তার প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই গাড়িটি তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকাজে নামে এনডিআরএফ এবং স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান চালাতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হয় উদ্ধারকারী দলকে।

অবশেষে রবিবার দুপুরে করোনেশন সেতুর কাছাকাছি এলাকা থেকে নদীর গভীর থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গাড়ির ভিতর থেকেই চার আরোহীর নিথর দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। এই দুর্ঘটনা ফের একবার মনে করিয়ে দিল, বর্ষাকালে পাহাড়ি রাস্তায় যাতায়াত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। টানা বৃষ্টি ও ধসের জেরে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় এখনও সতর্কতা জারি রয়েছে।


Share