Election Commission

দ্বিতীয় দফার আগে রাজ্যজুড়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি, ৯৩% ভোটের নজির ছাপিয়ে যাওয়ার আশায় আত্মবিশ্বাসী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক

সোমবার দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক। তাঁর বক্তব্য, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা আলাদা করে না দেখে গোটা রাজ্য জুড়েই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৯

২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন। তার আগেই জেলা সফরে গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল। জেলার পরিস্থিতি কী বা সেখানে ভোট কেমন হবে এই সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই কাকদ্বীপ, কাটোয়া, বর্ধমান-সহ আরোও কয়েকটি জেলায় গিয়েছিলেন। সেখানকার ডিএম-দের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন তিনি।

সোমবার দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণ প্রস্তুতির কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক। তাঁর বক্তব্য, প্রথম ও দ্বিতীয় দফা আলাদা করে না দেখে গোটা রাজ্য জুড়েই সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রথম দফার ভোটগ্রহণে প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, পুলিশ, আধা-সামরিক বাহিনী, ভোটকর্মী ও পোলিং এজেন্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে। একই ধারা বজায় রেখে দ্বিতীয় দফাতেও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি আরও বলেন, ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ অধিকার, যা থেকে কোনো যোগ্য ভোটারকে বঞ্চিত করা যায় না। বিভিন্ন জেলা ও স্পর্শকাতর এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আধিকারিক জানান, ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ স্পষ্ট। প্রথম দফায় প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদানের নজির তৈরি হয়েছে, এবং দ্বিতীয় দফায় অনেকেই সেই হার ছাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

প্রস্তুতির দিক থেকে দ্বিতীয় দফা আরও মজবুত হবে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রথম দফায় আসন সংখ্যা ও ভৌগোলিক পরিসর বেশি ছিল, তুলনায় দ্বিতীয় দফায় এলাকা কম হওয়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি, আগের দফার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরীক্ষিত ব্যবস্থাপনাকেই আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

অশান্তির সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে আধিকারিক বলেন, ভোটের আগে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিছু দুষ্কৃতী ভয় দেখানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আইনের শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।

ভোটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ভোট দেওয়া একটি ‘পবিত্র অধিকার’ এবং প্রত্যেক ভোটের মূল্য সমান পদমর্যাদা বা শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে। কোনো ধরনের বাধা বা ভয়ভীতি সৃষ্টি হলে ভোটাররা কন্ট্রোল রুম, নির্বাচন আধিকারিক, স্থানীয় থানা বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।

সব মিলিয়ে, প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফাতেও শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদী নির্বাচন কমিশন।


Share