Assembly Election

‘পরে কিন্তু কেঁদো না,’ ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে ধমক দিলেন পুলিশ অবজার্ভার অজয়

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের স্পষ্ট বক্তব্য, তখনই রাষ্ট্রের শক্তি যে কতটা তখনই বুঝতে পারবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবেই।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ অবজার্ভার অজয় পালশর্মা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩১

ভোটের আগে ভোটারদের মন থেকে ভয় দূর করতে কবে যে রাজ‍্যের পুলিশ এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল তা রাজ‍্যবাসী ভুলে গিয়েছেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ঘনিষ্ঠ নেতা তথা ফলতার প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ধমক দিলেন নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ অবজার্ভার অজয় পালশর্মা।

প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে আরও ১১ জন পুলিশ অবজার্ভারকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরপ্রদেশ ক‍্যাডারের ২০১১ ব‍্যচের আইপিএস অজয় পালশর্মাকে দক্ষিণ ২৪ পরগনারর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার সকালে। অভিষেক ঘনিষ্ঠ ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নামে অভিযোগ, তিনি এবং তাঁর দলবল ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন ভোট দিতে যেতে ভোটারদের বারণ করছেন। এমনকী, জোরপূর্বক ভোটারদের এপিক কার্ড হাতিয়ে নিচ্ছেন। তার পরেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এই অভিযোগ জমা পড়ে। তার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে কমিশন। সূত্রের খবর, বাড়িতে তাঁর ব‍্যবহার করা গাড়িটি ছিল। তাতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। সকালে তৃণমূলের কোনও প্রচারেই তাঁকে দেখা যায়নি।

সোমবার সকাল ১০টা নাগাদ জাহাঙ্গিরের বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ অবজার্ভার আইপিএস অজয় পালশর্মা অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যদিও জাহাঙ্গির সেই সময় বাড়িতে পাওয়া যায়নি। জাহাঙ্গির কোথায় তা-ও জানা যায়নি।

এর পরই আইপিএস অজয় পালশর্মাকে বলতে শোনা যায়, “আশপাশের যত লোক আছেন, ভালভাবে কান খুলে শুনে নিন, কেউ কোনও বদমাইশি করলে ভাল করে দাওয়াই দেওয়া হবে। যদি কোথাও থেকে খবর আসে যে কেউ কোনও গুন্ডামি করছে, কাউকে ভয় দেখাচ্ছে, তাহলে ভালমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

এর পরেই তৃণমূল নেতাকে বাড়িতে না পেয়ে জাহাঙ্গিরের বাড়ির লোকেদের উদ্দেশ্য করে উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ অজয় বলেন, “এখানে জাহাঙ্গিরের বাড়ি লোকেরা আছেন। ওকে(জাহাঙ্গির খান) ভালভাবে বুঝিয়ে দেবেন, বারবার খবর আসছে, যে ওর লোকেরা ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। এ বার ভালমতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে কিন্তু কান্নাকাটি করও না। পস্তাতে হবে কিন্তু।”

প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকেও শান্তিপূর্ণ করতে মরিয়া নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, “দুষ্কৃতীদের কাজই গন্ডগোল করা। ভয় দেখানো। আটকানোর চেষ্টা করবে।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তখনই রাষ্ট্রের শক্তি যে কতটা তখনই বুঝতে পারবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবেই।


Share