Assembly Election

ভোটার তালিকা সংশোধনে স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হলেও আত্মবিশ্বাসী নির্বাচন কমিশন, কলকাতা পোর্টে বিতর্কের মাঝেই কমিশনের কড়া বার্তা

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ভোটার সংখ্যা ২০২১ সালের প্রায় ২.৩৬ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১.৭৫ লক্ষে। অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারীক মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৪৪

কলকাতা পোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর এই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিজেপি-সহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে।

বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিং দাবি করেছেন, বহু বাসিন্দা অভিযোগ করছেন তাঁদের নাম হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন সিপিএম প্রার্থী ফৈয়াজ আহমেদ খানও। তাঁর কথায়, কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই একই সমস্যা সামনে আসছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ভোটার সংখ্যা ২০২১ সালের প্রায় ২.৩৬ লক্ষ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১.৭৫ লক্ষে। অর্থাৎ প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস। এই বড়সড় পতন ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে এমন একটি কেন্দ্রে, যা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও প্রার্থী করেছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে, যিনি টানা দু’বার এখান থেকে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আকিব গুলজার। ফলে এই কেন্দ্রে একাধিক দলের মধ্যে ত্রিমুখী বা চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার বন্দর অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। এখানে ডক এলাকা, পুরনো বাণিজ্যকেন্দ্র, ঘনবসতিপূর্ণ মহল্লা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। মুসলিম ভোটারদের বড় অংশের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক এবং নিম্নবিত্ত হিন্দু পরিবারগুলিও এই কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভোটার সংখ্যা কমে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলি বুথভিত্তিক তালিকা খতিয়ে দেখছে কোন এলাকায় কতজন ভোটার বাদ পড়েছেন এবং তার সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিরোধীদের অভিযোগ, বহু বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই ইস্যুতে আত্মবিশ্বাসী শাসক দল। প্রচারে ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, 'এলাকার মানুষ জানেন কে তাঁদের পাশে থেকেছে। শেষ পর্যন্ত ফল নির্ভর করবে মানুষের বিশ্বাসের ওপর।'

এদিকে নাগরিক সমস্যাও নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে উঠে আসছে পরিচ্ছন্নতা, যানজট, বাজারে ব্যবসার মন্দা সব মিলিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বিতর্কের বিষয় একটাই, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তাতে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ।


Share