Calcutta High Court

ভোটের আগে কড়া নির্দেশ, ৪৮ ঘণ্টা ‘গ্রুপ রাইডিং’ নিষিদ্ধ, ব্যক্তি স্বাধীনতায় ছাড় দিল কলকাতা হাই কোর্ট

সোমবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৫৩

পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাইক চলাচল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টা দল বেঁধে বাইক চালানো বা ‘গ্রুপ রাইডিং’ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে একই সঙ্গে ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেউ একা বাইক নিয়ে বাইরে বেরোতে চাইলে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না।

এর আগে বাইক চলাচল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের একাধিক বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হয়েছিল। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও-এর একক বেঞ্চ কমিশনের নির্দেশে আংশিক পরিবর্তন আনে। সেখানে বলা হয়, বাইক র‍্যালি নিষিদ্ধ থাকবে এবং ভোটের ১২ ঘণ্টা আগে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইকে যাত্রী তোলা যাবে না। তবে ভোটের দিন পরিবার নিয়ে বাইকে করে ভোট দিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

এই নির্দেশের বিরুদ্ধে আপিল করে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। বিচারপতি শম্পা সরকারের মন্তব্য, কেউ যদি বাইকে করে বাইরে বেরোতে চান, তা আটকানোর কোনও যুক্তি নেই। তবে একসঙ্গে দল বেঁধে বাইক চালানো যাবে না।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে, অন্য কোনও রাজ্যের নির্বাচনে এমন বিধিনিষেধের নজির কমিশন দেখাতে পারেনি। তাই সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা যায় না, কিন্তু ‘গ্রুপ রাইডিং’-এর উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে। সেই ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, প্রচারের শেষ দিন থেকেই আর কোনও বাইক র‍্যালি করা যাবে না।

এর আগে কমিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত বাইক চালানো গেলেও পেছনে যাত্রী তোলা যাবে না। ভোটের দিনও একই সময়সীমা বহাল থাকবে, তবে কেবল ভোট দেওয়া বা জরুরি প্রয়োজনে বেরোলে এই ছাড় মিলবে। চিকিৎসা, পারিবারিক প্রয়োজন বা স্কুলে শিশুদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। অ্যাপ-ভিত্তিক বাইক পরিষেবাকেও এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছিল। অন্য ক্ষেত্রে ছাড় পেতে হলে স্থানীয় থানার লিখিত অনুমতি নিতে হবে বলেও জানানো হয়েছিল।

এই নির্দেশের বিরোধিতা করে দায়ের হওয়া মামলায় আদালত জানায়, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা থাকলেও তা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে। কোনও নির্দিষ্ট আইন বা আদর্শ কার্যপদ্ধতিতে বাইক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা নেই, তাই সেই ধরনের নিষেধাজ্ঞা যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মত দেয় আদালত।


Share